ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনার আয়োজন এবং আয়োজনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক দিনের সফরে সিলেটে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফরের শুরুতে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
রাষ্ট্রপতি সিলেটের প্রবেশপথে পৌঁছালে মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা নগরীর সাতটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তবে বিকেল সাড়ে ৩টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিসিকের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বড় একটি অংশ অংশ নেননি।
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, অনুষ্ঠানটিকে ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ বলা হলেও বাস্তবে এটি কোনো নাগরিক কমিটির মাধ্যমে আয়োজিত হয়নি। তাঁদের ভাষ্য, বৃহত্তর সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে নাগরিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ ধরনের আয়োজন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের অনেকেই অনুষ্ঠানে যাননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।
এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক, সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নেতারাও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা।
মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন দুপুরে বয়কটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না।’
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনা আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।’
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অনেকেই যাননি। আমিও যাইনি।’
বিএনপির নেতারা বলেন, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে স্বাগত জানাতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। বরং সিলেটে প্রবেশের পথে সাতটি পয়েন্টে দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান তারই প্রমাণ। তবে ‘নাগরিক সংবর্ধনা’র নামে সিটি করপোরেশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তির কারণে।
তাঁদের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান ও শুভেচ্ছা প্রদর্শনের বিষয়টি একদিকে, আর সংবর্ধনা আয়োজনের প্রক্রিয়া অন্যদিকে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করায় তাঁরা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের একটি অংশের অভিযোগ, এই বয়কটের পেছনে মূলত সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি তাঁদের ক্ষোভও কাজ করেছে। যদিও এ বিষয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি সিলেটে প্রথম সফর। এক দিনের এই সফরে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিসিকের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সিলেট সফরকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর পরও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বড় একটি অংশের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কটের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




