ছবি:সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চারটি গরু ও ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। এ সময় মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
ওসি জানান, সোমবার উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজারের গরুর হাটসংলগ্ন রেললাইনের পূর্ব পাশে ফাঁকা জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারটি গরুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একটি চোরাকারবারি চক্র ভারতীয় গরু চোরাচালানের মাধ্যমে বড়লেখার দিকে নিয়ে আসছে।
পরে এসআই মো. আবদুল করিম ও এসআই শেখ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি গরুগুলো নামিয়ে পিকআপযোগে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারটি গরু উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বিওসি কেছরীগুল (ডিমাই) গ্রামের আব্দুল আজিজ বচুর ছেলে শাহিন আহমদ (১৯) ও একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আফজল হোসাইন আইনুল (২০)। উদ্ধার করা চারটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
অপরদিকে, সোমবার রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গুলিস্তান এলাকায় ডেফলগাছের নিচে অভিযান চালিয়ে ৪০ লিটার দেশীয় মদসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দেশীয় তৈরি মদ দক্ষিণভাগ বাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শেখ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাজিব রবিদাস (২৬) ও রাজু রবিদাস (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ হাজার টাকা এবং জব্দ করা সিএনজির মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় বড়লেখা থানা পুলিশের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড ও নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




