চিকিৎসক নেই, মিলছে না সেবা
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ PM

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

চিকিৎসক নেই, মিলছে না সেবা

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ০৫:৪৩:৫০ PM

চিকিৎসক নেই, মিলছে না সেবা

ছবি:সংগৃহীত


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চলছে চিকিৎসক ছাড়াই। এমবিবিএস চিকিৎসক তো নেই-ই, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদেও দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে কেউ কর্মরত নেই। ফলে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম। বর্তমানে সেখানে নাসরিন আক্তার নামে একজন ফার্মাসিস্ট ও আয়েশা আক্তার নামে একজন মিডওয়াইফ কর্মরত রয়েছেন।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফ আয়েশা আক্তার জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক মামুনের উদ্যোগে একজন এমবিবিএস চিকিৎসককে এখানে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। ওই চিকিৎসক কিছুদিন কর্মস্থলে এসে পরে আর আসেননি।

তিনি আরও জানান, গত ৬-৭ বছরে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদে কাউকে পোস্টিং দেওয়া হয়নি। এর আগে সর্বশেষ এ পদে কেউ কর্মরত ছিলেন কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।

বর্তমানে কর্মরত ফার্মাসিস্ট নাসরিন আক্তার রোগীদের মুখে রোগের বর্ণনা শুনে সীমিত পরিসরে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এতে গুরুতর বা জটিল রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, ‘গরিব রোগীদের কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যসেবা দিতে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসককে পোস্টিং দেওয়া খুব জরুরি। এখানে প্রতিদিন অনেক রোগী আসেন। চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা দুর্ভোগে পড়ছেন।’

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে আপাতত কাউকে পোস্টিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি আমাদের কনসার্নে আছে।’

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ