ছবি: জৈন্তা বার্তা
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জসহ হাওর এলাকার কৃষকরা সাধারণত বর্ষার শেষ সময় থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। বিশেষ করে শরৎকাল থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত হাওরে ধানসহ নানা ফসলের আবাদ করা হয়। এ সময় ধানগাছসহ বিভিন্ন ফসলে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেন।
অনেক ক্ষেত্রে একই জমিতে বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা সম্ভব হয় না। তখন কৃষকরা এক ধরনের কীটনাশক পরিবর্তন করে অন্য ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত ফলও পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোপা আমন ধানক্ষেতে পোকা দমনের জন্য কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে কোন পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং তার প্রতিকারে কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তাদের অনেকেই জানান, কীটনাশক বিক্রেতা যে ওষুধ দিয়েছেন, সেটিই কিনে জমিতে প্রয়োগ করছেন।
কাকাইলছেও ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মিজবাহ উদ্দিন (৫৫) সবজি ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগের সময় জানান, কোন পোকার আক্রমণে কোন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়, সে বিষয়ে তারও সঠিক ধারণা নেই। বাজারের কীটনাশক বিক্রেতাকে গাছের সমস্যার কথা জানানোর পর বিক্রেতা তাকে দুটি ওষুধের প্যাকেট দিয়েছেন। তিনি সেগুলোই জমিতে ব্যবহার করছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, শুধু কীটনাশক নয়, সার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও তাদের অনেকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। অনেক কৃষক নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুমানের ভিত্তিতে জমিতে সার প্রয়োগ করেন। অথচ কৃষি বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, মাটি পরীক্ষা করে জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করার কথা।
এ ছাড়া ফসল চাষের নির্দিষ্ট সময়ের আগে গোবর ও অন্যান্য জৈব সার ব্যবহার এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগের নিয়ম রয়েছে। তবে অনেক কৃষক এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন না।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন কৃষকদের অসচেতনতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কৃষকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো এবং কীটনাশক বিক্রেতাদের নির্দেশমতো বিষ ও সার প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে অনেক বিক্রেতা কৃষকদের অপ্রয়োজনীয় বা একাধিক ওষুধ গছিয়ে দেন। অথচ নিয়ম হলো, প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করা।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠে যাওয়ার বিধান রয়েছে। কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় তারা সবসময় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে সচেষ্ট রয়েছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




