আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই সন্তানের সামনে নারীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ PM

আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই সন্তানের সামনে নারীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৯/২০২৬ ০৫:৪০:০৮ PM

আশ্রয় দেওয়ার  কথা বলে দুই সন্তানের সামনে নারীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ

সংগৃহিত


গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামে এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পাশের একটি পানের আড়তে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় ওই নারী তাঁর ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। পরে তিনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়্যা আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

ওই নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন তিনি।

অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি ছোট পানের দোকান চালাতেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে বসেছিলেন তিনি। একপর্যায়ে সোহরাব তাঁর কাছে এসে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান তিনি। তবে ব্যবসায়ীরা বিচার না করে তাঁর হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

এরপর হতাশ হয়ে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পানের আড়তে নিয়ে যান।

গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। সেখানে শ্রীপুর থানার তিন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ওই নারী বারবার তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বিচার দাবি করছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ স্থানীয় দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওই নারী ও তাঁর সন্তানদেরও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. শফিকুল বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামে এক ব্যক্তি একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে দোকানটি বন্ধ রয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান।

আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ