সংগৃহীত
শরতের নরম রোদ তখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে হালকা শীতের আগমনী বার্তা। এমন স্নিগ্ধ ও মায়াময় বিকেলে শুক্রবার চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে বসেছিল সংস্কৃতির বর্ণিল আসর। গান, কবিতা, নৃত্য ও লোকজ ঐতিহ্যের নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার (২ অক্টোবর) শুরু হয় দুই দিনব্যাপী ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’। উৎসবকে ঘিরে উপজেলা পরিষদ মাঠ পরিণত হয় কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মিলনমেলায়। শরতের নির্মল আকাশের নিচে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি একই মঞ্চে তুলে ধরা হয়।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও পরিষদের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। পরে মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় ধামাইল, ঝুমুর, সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী বাহা নৃত্য, মণিপুরি-ত্রিপুরাদের হোজাগিরি ও সমবেত নৃত্য।
ছিল নাট্য পরিবেশনা, সংগীতানুষ্ঠান ও গাজীর গীত। প্রখ্যাত শিল্পী লালন দেবের সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে বাড়তি আনন্দ। মঞ্চের গান ও নৃত্যের সঙ্গে দর্শকদের হাততালিতে উৎসবস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
উৎসবের একপর্যায়ে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জন্মোৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ডঃ জিএম সরফরাজ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইত্তেফাক-এর নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।
উৎসবে যোগ দিতে শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নোয়াপাড়া বাসভবনে অতিথিরা উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ও অন্যান্য অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এমপি ফয়সল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে অতিথিরা সেখানে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
শরতের শেষ বিকেলের কোমল আলোয় উপজেলা পরিষদ মাঠে গান, নৃত্য আর মানুষের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় এক অনন্য আবহ। আয়োজকেরা জানান, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে চুনারুঘাটের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




