ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের আনুজানী গ্রামে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে গবাদিপশু চুরি, ছিনতাই, ভূমি বিরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে আন্দোলন, সালিশ-মীমাংসায় অর্থ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ১ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামের সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন আনুজানী গ্রামের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে পারভেজ মোসারফ।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের পাশাপাশি সালিশের নথি, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), ব্যাংক রেকর্ড, ভয়েস রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে ২০২০ সালের একটি গাভী চুরির অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, গাভীটি কয়েক হাত বদলের পর বিষয়টি স্থানীয় সালিশে ওঠে এবং টাকা ফেরতের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়। একই সঙ্গে বরাটুকা মৌজার এজমালি ভূমি নিয়ে আনুজানী ও মেওয়াতৈল গ্রামের বিরোধ এবং এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আনুজানী জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক প্রবীণ শিক্ষককে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলন ও মব তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আনুজানী ব্রিজ এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় দুটি মোবাইল ফোন ও প্রায় ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। পরে স্থানীয় সালিশে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগকারীরা জানান। একই সালিশে গরু চুরির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
চানপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের দুটি মহিষ চুরি এবং এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আনুজানীর জহুর আলী ও মাহমুদুল হাসান ছালিকের মধ্যে ভূমি বিরোধ এবং এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাওলানা সৈয়দুর রহমানের হারিয়ে যাওয়া স্বাক্ষরযুক্ত ব্যাংক চেকের ছবি আব্দুন নুর মেম্বারের মোবাইল ফোনে দেখা যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জিডি, ব্যাংক রেকর্ড, চেকের ছবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
সালিশ-মীমাংসাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। মেওয়াতৈল এলাকার একটি বিরোধের সালিশে প্রায় ১০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ভয়েস রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
সবশেষে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট আনুজানী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সর্বশেষ সংঘর্ষের পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ভূমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, সালিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধের বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। গবাদিপশু চুরি, ছিনতাই, ভূমি বিরোধ, সালিশে অর্থ লেনদেন, ব্যাংক চেক-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং ১ আগস্টের সংঘর্ষ—সব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তারা।
তারা সাংবাদিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলো শুধু প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, নথি ও প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে হবে। কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও প্রকাশ করার আহ্বান জানান তারা।
আনুজানী গ্রামের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে পারভেজ মোসারফ স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




