চীনা সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় নতুন সংযোজন শাবিপ্রবির চাইনিজ কর্নার
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ PM

চীনা সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় নতুন সংযোজন শাবিপ্রবির চাইনিজ কর্নার

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৬ ০৩:৪৭:৪৭ PM

চীনা সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় নতুন সংযোজন শাবিপ্রবির চাইনিজ কর্নার

সংগৃহিত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত চাইনিজ কর্নার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের ১০ম তলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চাইনিজ কর্নারের স্থানান্তর ও উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে চাইনিজ কর্নারের উদ্বোধন করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান, অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান, চাইনিজ কর্নারের কো-অর্ডিনেটর ড. মো. সাহাবুল হক, অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফাখরুস সালাম এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. হাজেরা আক্তার।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফইটি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার রহমান, ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজেস (আইএমএল)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুল হক, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার, সোশিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল হক হায়দার এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সায়ীফ আহমদ। অনুষ্ঠানে অতিথিদের চীনা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী চা পরিবেশন করা হয়।

চীনা সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার নান্দনিক পরিসর

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগে চাইনিজ কর্নারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, চীনা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কর্নারটি।

নতুন ঠিকানায় চাইনিজ কর্নারটি আইআইসিটি ভবনের ১০ম তলায় তিনটি কক্ষ নিয়ে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরি এবং দুটি রিডিং রুম রয়েছে। পাঠ ও আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে রয়েছে চেয়ার, সোফা ও বিভিন্ন নান্দনিক সাজসজ্জা। পাশাপাশি রয়েছে একটি টেলিভিশন সেট।

চাইনিজ কর্নারে রয়েছে প্রায় ৫০০টি বইয়ের সংগ্রহ। এর মধ্যে চীন ও চীনা সংস্কৃতিবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় বই। এছাড়া কর্নারে প্রদর্শিত হচ্ছে চীনা সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন, শিল্পীদের শিল্পকর্ম এবং ক্যামেরায় ধারণ করা নানা আলোকচিত্র।

বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে চীনে ভ্রমণের সময় দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান শিল্পীর তুলিতে আঁকা চা-বাগানের আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম। এসব শিল্পকর্মে চীনের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী থেকে বাছাই করা শিল্পকর্মও চাইনিজ কর্নারের নান্দনিকতা আরও সমৃদ্ধ করেছে।

বই, শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র ও চীনা সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শনের সমন্বয়ে চাইনিজ কর্নারটি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য চীনকে জানা, পড়াশোনা করা এবং দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

সবার জন্য উন্মুক্ত

চাইনিজ কর্নারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আগ্রহী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সপ্তাহের সাত দিন প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চাইনিজ কর্নার পরিদর্শন ও প্রদর্শনীর জন্য খোলা থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চাইনিজ কর্নারের নতুন এই যাত্রার মাধ্যমে শাবিপ্রবিতে চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। আইআইসিটি ভবনের ১০ম তলায় তাই চাইনিজ কর্নারটি শুধু একটি পাঠকক্ষ নয়; বই, শিল্প, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে চীনকে জানার জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ