সংগৃহিত
আড়াই বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল মুহাম্মাদ মুয়াজ আব্দুল্লাহ। দীর্ঘ দেড় বছরের চিকিৎসায় ৮ সাইকেল কেমোথেরাপি, ৩৯ সেশন রেডিওথেরাপি ও ৬টি অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসারকে জয় করেছিল সে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি আবারও অসুস্থ হয়ে পরীক্ষার পর মুয়াজের শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়েছে।
মুয়াজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জুলকারনাইন রাদের বড় ছেলে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জন্ম নেওয়া শিশুটির উন্নত চিকিৎসায় এবার প্রয়োজন প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মুয়াজের চিকিৎসায় দেশ-বিদেশের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।
মুয়াজের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমবার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। এ সময়ে তাকে ৮ সাইকেল কেমোথেরাপি, ৩৯ সেশন রেডিওথেরাপি ও ৬টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসা শেষে সে ক্যানসারমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে ছিল।
মুয়াজের বাবা জুলকারনাইন রাদ বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মুয়াজের জীবন এবার স্বাভাবিক ও সুন্দর হয়ে উঠবে। কিন্তু নিদারুণ বাস্তবতা তাকে আবারও এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’
সম্প্রতি মুয়াজের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ও জ্বর দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তার হিমোগ্লোবিন ৫ দশমিক ৮, প্লাটিলেট ১০ হাজার এবং ডব্লিউবিসি ১ দশমিক ৫ লাখ পাওয়া যায়। এরপর বোন ম্যারো পরীক্ষা, জিনগত বিশ্লেষণ পরীক্ষা (নেক্সট-জেনারেশন সিকোয়েন্সিং—এনজিএস), ক্রোমোজোম পরীক্ষা (কেরিওটাইপিং), মস্তিষ্কের এমআরআই এবং টিস্যু পরীক্ষা (হিস্টোপ্যাথলজি)সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার পর তার শরীরে ব্লাড ক্যানসার শনাক্ত হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ চলতে থাকায় শুরুতে মুয়াজের জটিল চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে কোনো হাসপাতাল আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। সেখানে BFM 2004 প্রোটোকল অনুযায়ী কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে।
চিকিৎসার এই ধাপে পাঁচটি ইন্ডাকশন বা কেমোথেরাপি সাইকেল প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রথম সাইকেল চলছে। শুধু এই পর্যায়ের হাসপাতাল খরচ আনুমানিক ৭৫ লাখ টাকা। এরপর ক্যানসার পুরোপুরি নির্মূল করতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রয়োজন হবে। এ জন্য মুয়াজকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিতে হবে। সেখানে চিকিৎসায় আরও অন্তত ৫০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।
সব মিলিয়ে মুয়াজের দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবার। এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মুয়াজের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সবার কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
যেভাবে সহযোগিতা করা যাবে
মোবাইল ব্যাংকিং
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




