সংগৃহিত
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জামেয়া ইসলামিয়া দারুল হাদিস আনসারুল উলুম জয়নগর মাদ্রাসার বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পবিত্র কোরআন শরিফ বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয় রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ২টায় মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ তুলে দেওয়া হয়।
রোটারিয়ান ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোটারিয়ান পিপি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রুহুল আলম খান। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতুগ্রাম তাজুল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা বদরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রোটারিয়ান নিশি কান্ত দাস, রোটারিয়ান পিপি এম এ রহিম, রোটারিয়ান পিপি ড. এম শহীদুল ইসলাম এবং রোটারিয়ান আহমদ রশীদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা বদরুজ্জামান বলেন, পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পথনির্দেশনা। কোরআনের শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে, অন্যায় থেকে বিরত থাকতে, পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে শেখায়। তাই শুধু কোরআন তিলাওয়াত নয়, এর অর্থ অনুধাবন করে শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্ম। মেধা ও যোগ্যতার পাশাপাশি তাদের সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সুন্দর জীবন গঠনের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগের প্রশংসা করে মাওলানা বদরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সহযোগিতা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে কোরআন শরিফ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার চর্চাও উৎসাহিত হবে।
তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রোটারিয়ান এবং বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




