চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/১০/২০২৬ ১১:১১:৪২ পূর্বাহ্ন

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংগৃহিত


চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার (২৬ অক্টোবর) তিনি দেশটিতে যান।

প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওতে বাংলাদেশের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে পৌঁছানোর দিনই দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশের কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।

চার দিনের সফরে জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব

সফরের আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) কার্যকর করা, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে দুই পক্ষ। জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী, দেশে জাপানি বিনিয়োগে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া রয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জাপানের সহায়তায় ঢাকার মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশটি সফর করেন ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: