প্রবাসীদের জমি দখলের অভিযোগ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবে প্রশাসন: সিসিক প্রশাসক
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রবাসীদের জমি দখলের অভিযোগ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবে প্রশাসন: সিসিক প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬/১০/২০২৬ ০৬:০৩:১৫ অপরাহ্ন

প্রবাসীদের জমি দখলের অভিযোগ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবে প্রশাসন: সিসিক প্রশাসক

সংগৃহিত


যুক্তরাজ্যের লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের জমি দখল কিংবা জমি-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে। এ ধরনের অভিযোগ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সিসিক প্রশাসক ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদকে স্বাগত জানান।

সাক্ষাৎকালে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রবাসীরা দেশে ফিরে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের বৈধ সম্পত্তি যাতে কেউ অন্যায়ভাবে দখল করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক ব্রিটিশ নাগরিক উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সেখানে তাঁদের তৃতীয় প্রজন্মও বেড়ে উঠছে। তবু বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও টান অটুট রয়েছে। সেই টানেই তাঁরা নিয়মিত দেশে আসেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকারের এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এ ধরনের মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনে উষ্ণ আতিথেয়তা পাওয়ায় প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও তাঁর দলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ, বিশেষ করে সিলেটের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু প্রবাসী বা ভৌগোলিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রক্তের, আত্মার ও সংগ্রামের সম্পর্ক। টাওয়ার হ্যামলেটসকে বাংলাদেশের বাইরে এক টুকরো বাংলাদেশ বললেও অত্যুক্তি হবে না। সেখানে বাংলাদেশের পতাকা অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে উড়ছে।

ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ আরও বলেন, সাক্ষাতে আধুনিক নগরায়ণ, যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটস ও সিলেট সিটি করপোরেশন নিজেদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।

দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় সাবেক এপিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যবসায়ী মেহরাব মুমিন এবং সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ