ছবি:সংগৃহীত
‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ-সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আট গ্রামের জুয়া ও মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিটিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে দিরাই উপজেলার ৪ নম্বর চন্নারচর ইউনিয়নের লৌলারচর মিলনবাজারের তালুকদার মার্কেটের সামনে এ কমিটি গঠন করা হয়। লৌলারচর গ্রামের পর্তুগালপ্রবাসী মো. হাফিজুর রহমান (লিমন) তালুকদার ও মো. মোক্তার হোসেনের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মো. হাফিজুর রহমান (লিমন) তালুকদার, মোক্তার হোসেন, বাবুল তালুকদার, এরশাদ মিয়া, নুরুল ইসলাম খান, মঞ্জু মিয়া, গুলজার মাস্টার, রিয়াজ মিয়া, ছয়ফুল মিয়া, ইজাজুল মিয়া, মাজারুল তালুকদার, ইমরান মিয়া, মো. আলী, মুকবুল হোসেন (টিয়ন), আলামিন, দুলন মিয়া, দুলাল মিয়া, তপসি মিয়া, তালুকদার নুর নবী মিয়া, ফারুক মিয়া, কবির মিয়া, সাব্বির মিয়া, ইয়াকুব আলী, রব্বানি মিয়া, ইনুছ মিয়া, লতিফ মিয়া, সূর্য লাল, রিয়াজ, কাউছার মিয়া, নুরুল আমিন, জসিম মিয়া, মোয়াজিন, আশাদুল, মায়াদুল ইসলাম, নবাব মিয়া, সালাম মিয়া, সাহিনুর মিয়া, বজলু মিয়া, কালাম, জুনায়েদ, মোনায়েম খান, প্রভাত দাস, মলয় দাস, জগন্নাথ (মাস্টার), স্বপন চক্রবর্তী, সুমন চৌধুরী, রঞ্জু দাস, বিকাশ দাস, সমিরন দাস, গাজি মিয়া তালুকদার, বিদুৎ দাস, পযেশ দাস, অধির দাস, গৌরাঙ্গ দাস, সজিব ভৌমিক, সুব্রত উকিল, মৃদুল ভৌমিক, রঞ্জন কোমার সামান্ত, বিপ্রেশ হজরা, সোনিল দাশ, সিদিল দাস, পরিক্ষিত দাস, মজিবুর খান, চানু ভুয়া, রুবেল দাস ও ধরনী দাস।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের কারণে তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নানা অপরাধের বিস্তার ঘটে। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, লৌলারচর মিলনবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এলাকার সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মিলনবাজারসহ আট গ্রামের পুরো এলাকাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কমিটির সহযোগী উদ্যোক্তা মো. মোক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, লৌলারচর মিলনবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির কিছু নেতার আশ্রয়ে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর পরিচালিত হতো। সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একই কর্মকাণ্ড চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। মামলা ও হামলার ভয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অনেকে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোক্তার হোসেন মাদক ব্যবসা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ ছাড়া গত ১৯ অক্টোবর তালুকদার মার্কেটের সামনে পর্তুগালপ্রবাসী মো. হাফিজুর রহমান (লিমন) তালুকদারের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




