সিলেটে এমন বৃষ্টি থাকবে আরও প্রায় এক সপ্তাহ
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ AM

সিলেটে এমন বৃষ্টি থাকবে আরও প্রায় এক সপ্তাহ

মাহমুদ খান, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০২/০৭/২০২৩ ০১:৩৪:১৮ AM

সিলেটে এমন বৃষ্টি থাকবে আরও প্রায় এক সপ্তাহ

ছবি সংগৃহীত


আষাঢ়ের ১৮তম দিন আজ রোববার (২ জুলাই)। টানা কয়েক ধরে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টি বেড়ে গেছে। আগামী এক সপ্তাহ তা একই রকম থাকতে পারে। ফলে আগামী প্রায় এক সপ্তাহ একইভাবে ঝরতে পারে সিলেটে বৃষ্টি। এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসেন।

তিনি জানান, শনিকার সকাল ৬টা থেকে আজ রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১১ মিলিমিটার। আর আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।  

জানা গেছে, ঈদের আগের দিন থেকে সিলেটে হওয়া অবিরাম বৃষ্টিপাতে বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। 

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের সুরমাসহ সকল নদনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার একাধিক উপজেলা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। লোকালয়, রাস্তাঘাটে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গেল ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুরমা, কশিয়ারা, যাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই ও চেলাসহ জেলার প্রধান প্রধান নদীর পানি বেড়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিত দেখা দিয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জ পৌরশহরের বড়পাড়া, পশ্চিম হাজীপাড়া, কাজির পয়েন্ট, সুলতানপুর, নবীনগর এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও  বিশ্বম্ভরপুরসহ একাধিক উপজেলায় লাখো মানুষ। 

জেলার তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ারখলা ও আনোয়ারপুর এলাকার সাবমার্জেবল অংশ পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঈদে বাড়ি থেকে কর্মস্থল ফেরত মানুষসহ এলাকাবাসী। 

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। 

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেন,  আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নগদ ২৫ লাখ টাকা, ৬০০ মেট্টিক টন চাল, ১০ হাজার প্যাকেট শুক্নো খাবার বজুদ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, সিলেটে বন্যার শঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুন এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন- ‘সিলেটে বন্যা হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা হলে এর ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ৪১৯ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৪৬৬ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহসংস্কার বাবদ ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান- গত বছরের বন্যার সময় তৈরি করা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আবারও প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ৩-৪ লাখ টাকা করে স্টিলের দুটি বড় নৌকা ক্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। কারণ- গত বছরের দফায় দফায় বন্যায় বড় নৌকার অভাব প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

জৈন্তাবার্তা/এমকে



শীর্ষ সংবাদ:

গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের চেহারা পাল্টে দিতে চাই' - এমপি এমরান চৌধুরী
দেশের অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির
ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে একের পর এক জটিলতা
বিদ্যুতের ভো'গান্তিতে জগন্নাথপুরবাসী
সাদাপাথরে ১০ ঘণ্টা পর মিলল পর্যটকের ম'রদেহ
জৈন্তাপুরে ভাইরাল ভিডিও: নিজপাট ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘিরে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই, এমপি তাহসিনা রুশদী লুনা
জকিগঞ্জে বিশ্বকাপের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে যুবক খু'ন
জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভ'য়াবহতা বাড়ার শ'ঙ্কা
জগন্নাথপুরে জমে উঠেছে নৌকার হাট