ছবি:নিজস্ব
বর্ষা পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বইছে ঋতুর রানী শরৎকাল। বাংলাদেশের ছয়টি ঋতুর মধ্যে একেক ঋতুর ভিন্নতা ও বৈচিত্র আলাদা আলাদা। বিশেষ করে শরৎ ঋতু বাঙালিদের জন্য নিয়ে আসে শীতের আগমনী বার্তা ও সৌন্দর্যের পথিক হিসেবে সাদা কাশফুল। মন ভুলানো কাশফুল হলো শরতের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যা তার সাদা, নরম, তুলতুলে ফুলের জন্য পরিচিত এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের করে মোহিত। এই ফুলগুলো প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, যা দেখে মন ও চোখ জুড়িয়ে যায়।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুড়ি একটি সীমান্তঘেঁষা গ্রাম, যা পাহাড়, ঝরনা, চা-বাগান ও সবুজ প্রান্তরের সমন্বয়ে গঠিত এবং পর্যটকদের কাছে "খাসি হাওর" বা "খাসিয়া হাওর" নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এটি মেঘালয়ের উঁচু পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত একটি স্থান। এটি একটি প্রাকৃতিক স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত, যা মেঘালয়ের উঁচু উঁচু পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত। বর্তমান সময়ে শরতের এই ঋতুতে বেশ কিছু জায়গায় জুড়ে ফোটা সাদা কাশফুল এই জায়গার সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন ভাবে আকৃষ্ট করছে প্রকৃতি প্রেমীদের। পাহাড়ের পাদদেশে খন্ড খন্ড সাদা মেঘের নীল আকাশের নিচে চারিদিকের সবুজের সমারোহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ এখন সাদা কাশফুল। সীমান্তঘেঁষা হওয়ার কারণে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেশি মনোমুগ্ধকর, যার কারণে কাশফুলের সৌন্দর্য নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। পাহাড়ের উপত্যকায় দুইদিকে দুই ঝর্ণা দ্বারা নিচে বিশাল সবুজ মাঠ আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠো পথ চারিদিকে সবুজ গাছগাছালি আর পাখিদের কলরব আর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাশি খালের স্বচ্ছ জল অনেক আগ থেকেই প্রকৃতি প্রেমীদের মুগ্ধ করে রেখেছে। এবার প্রায় দশ শতক জায়গায় পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে নতুন করে সংযুক্ত হয়েছে সাদা কাশফুল। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভীড়ে এই জায়গার পরিচিতির পরিধিটা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবুজে মোড়া বিস্তৃত মাঠ, মাঝখানে ক্রিকেট পিচ,পেছনে উঁচু পাহাড় থেকে নেমে এসেছে ঝরনাধারা। ভাইরাল হওয়া এমন ভিডিওর কল্যাণে জায়গাটাকে এখন কেউ বলছেন ‘বাংলার কাশ্মীর’, কারও কাছে ‘সিলেটের পেহেলগাম’।
সেখানে ঘুরতে যাওয়া শামীম আহমদ বলেন,মূলত এই জায়গায় বহুবার বেড়াতে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করেছি, বর্তমানে সাদা কাশফুল সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সময়ে বেড়াতে না আসলে এই অনুভূতি অজানাই রয়ে যেত। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসছেন,এই জায়গার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রিয় মুহূর্তটা স্মৃতিময় করে রাখতে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। আমিও এর ব্যতিক্রম নয়।
গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, পর্যটন এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে আসেন। ভ্রাম্যমাণ টয়লেট না থাকায় এতদিন ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নতুন পর্যটন আকর্ষণ নলজুরি মাঠে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।
এবার টয়লেট স্থাপনের ফলে পর্যটকদের জন্য একটি সুবিধা নিশ্চিত হলো।
গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর উত্তরদিকে অবস্থিত।পর্যটন শুধু বিনোদন নয়, গোয়াইনঘাটের জন্য একটি অর্থনৈতিক খাত। পর্যটকদের যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে বুনিয়াদি কাঠামো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিতে হবে।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




