ছবি:নিজস্ব
চলতি শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার (১লা অক্টোবর) নবমী'র দিন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সরকারি ছুটি। এতে করে নবমী ও বিজয়াদশমী অর্থাৎ বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির পাশাপাশি শুক্রবার শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সারাদেশ চারদিনের এক লম্বা ছুটিতে পড়তে যাচ্ছে।
এদিকে সিলেট জেলার প্রকৃতি কন্যা খ্যাত অন্যতম উপজেলা জৈন্তাপুরে আগামী চারদিনের ছুটিকে সামনে রেখে উপজেলার হোটেল রিসোর্ট গুলো শতভাগ প্রি- বুকিং হয়েছে গেছে।
সিলেটের অন্যতম প্রকৃতিকন্যা খ্যাত দেশে সকল মানুষের প্রিয় পর্যটন স্পট গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। এর পাশাপাশি সোনাটিলা ডাউকি ভিউ পয়েন্ট, তামাবিল ইমিগ্রেশন পয়েন্ট, নলজুরী প্লে-গ্রাউন্ড পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিকট অনেক জনপ্রিয়। এই নয়নাভিরাম স্পটগুলো গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্হিত হলেও তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার বিশাল একটা অংশ অতিক্রম করে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের যেতে হয়। যার কারণে পর্যটন মৌসুমে পাশ্ববর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে মহাব্যাস্ততার পাশাপাশি জৈন্তাপুরেও দর্শনীয় স্পটগুলো বাড়ে প্রচুর জনসমাগম।
জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবিরহাওড় লাল শাপলা বিলের মৌসুম আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হবে। বর্তমানে পূজার ছুটিতে লাল শাপলা বিলে তেমন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আশা না করা গেলেও বাংলার নীলনদখ্যাত সারী নদী, লালাখাল পর্যটন স্পট, চা বাগান, জৈন্তাপুর ইরাদেবী রাজবাড়ী,সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র, শ্রীপুর চা বাগান মেঘালয় ভিউ পয়েন্ট সহ অন্যান্য স্পটগুলোতে লোকসমাগম আশা করা যাচ্ছে।
এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলায় হাতেগোনা যে কয়েকটি রিসোর্ট ও লাক্সারিয়াজ রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সারিনদীর তীরবর্তী নয়নাভিরাম লাক্সারিয়াজ নাজিমগড় রিসোর্ট, আলুবাগান মোকামবাড়ী এলাকায় জৈন্তা হিল রিসোর্ট ও দ্যা ওয়্যার জৈন্তা রিসোর্ট।
এ বিষয়ে নাজিমগড় রিসোর্টের ফ্রন্ট অফিসের দায়িত্বে থাকা শুভ দাস জানান, আগামী ১লা অক্টোবর থেকে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ফুল বুকিং অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন করে আর বুকিং রাখা হচ্ছে না। তিনি বলেন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বিনোদন সুবিধা নিশ্চিতে রিসোর্টে আধুনিকায়ন সহ সেবার মান অনেক উন্নত করা হয়েছে। আগামী তিনদিন এখানে যারা অবস্থান করবে তাদের পছন্দের খাবারের অর্ডার সহ ফ্রী ব্রেকফাস্ট ও সুইমিংপুল, পেডেলবোটে ভ্রমনের সুযোগ থাকছে।
দ্যা ওয়ার জৈন্তা রিসোর্টের ব্যাবস্হাপক বকুল আহমেদ জানান গত দুইদিন পূর্বে অনলাইনের মাধ্যমে সবগুলো কক্ষ প্রি বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন তাদের রিসোর্টে ৬ টা রুম ও ২টা কটেজ রয়েছে পাশাপাশি রয়েছে ওয়াচটাওয়ারের ব্যবস্হা। যেখানে দাঁড়িয়ে অতিথিগণ মেঘালয় পাহাড় সহ চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও অতিথিদের পছন্দের খাবার প্রি অর্ডারের মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্হার পাশাপাশি রয়েছে বার্বি-কিউ এর সুবিধা।
আলুবাগান মোকামবাড়ী এলাকার সু-বিশাল এরিয়া নিয়ে স্হাপিত জৈন্তা হিল রিসোর্ট। এটি একমাত্র রিসোর্ট যেখানে রুমের ব্যলকনি থেকে সরাসরি মেঘালয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের সাথে ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ বিষয়ে জৈন্তা হিল রিসোর্টের পরিচালক সৈয়দ রাজু আহমেদ বলেন আগামী ১লা অক্টোবর থেকে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের সবগুলো কক্ষ অনলাইনের মাধ্যমে প্রি- বুকিং হয়ে গেছে। বুধবার থেকে অতিথি আসা শুরু হবে। অতিথিদের সেবার মান নিশ্চিতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সেই সাথে রিসোর্টের নিজস্ব রেষ্টুরেন্টে প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে খাবারের সুবিধার পাশাপাশি বার্বি-কিউর সুব্যাবস্হা রাখা হয়েছে।
এদিকে লম্বা ছুটিতে জাফলং ও জৈন্তাপুরে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়ায় তামাবিল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে তামাবিল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ষষ্ঠী পূজার দিন থেকেই মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইওয়ে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। আগামী কয়েকদিনের ছুটির কথা মাথায় রেখে হাইওয়ে পুলিশ জৈন্তাপুর উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানজট নিরসনে বিশেষ টিম কাজ করবে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে ছুটি এই দিনগুলোতে সকাল ১০ থেকে বেলা ১২ টা ও বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনে আধিক্য থাকে বেশী। এই সময়টাতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে যাতে যানজট না লাগে সে জন্য পুলিশের টহলটিম গুরুত্ব সহকারে কাজ করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, চলতি শারদীয় দূর্গা পূজাতে প্রশাসন সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিটি মন্ডপে পূজা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। এরই পাশাপাশি জৈন্তাপুর পর্যটনবান্ধব উপজেলা হওয়ায় লম্বা সরকারি ছুটিতে লোক সমাগোম বৃদ্ধি পাবে। সব কিছু বিবেচনায় উপজেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করার জন্য ইতিপূর্বে বলা হয়েছে। তিনি বলেন এখন পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলার শারদীয় দূর্গা পূজা থেকে শুরু করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি উপজেলার সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




