মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাবি'র শহীদ রুদ্র সেন লেক
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১:৪১ PM

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাবি'র শহীদ রুদ্র সেন লেক

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১/১০/২০২৫ ১০:০৯:১৮ PM

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাবি'র শহীদ রুদ্র সেন লেক

ছবি: নিজস্ব


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শহীদ শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের নামে ক্যাম্পাসে একটি নতুন লেকের নামকরণ করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে ফুডকোর্ট সংলগ্ন লেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

লেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝামাঝি হওয়ায় সহজেই যে কারও নজরে আসে। ভোরবেলা সূর্যের প্রথম আলোয় পানির বুকে ভেসে ওঠে লাল শাপলার রঙিন দ্যুতি। হালকা বাতাসে ফুলগুলো দুলতে দুলতে যেন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লেকজুড়ে শাপলার ঔজ্জ্বল্যে তৈরি হয় এক স্বর্গীয় পরিবেশ। কেউ হেঁটে গেলে কিংবা দাঁড়িয়ে তাকালেই মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়েছে এ লেককে।

লেকের মাঝখানে ভেসে থাকা বড় অক্ষরে লেখা “SUST” শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের গর্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারপাশে লাগানো বিভিন্ন ফুল ও সবুজ গাছপালা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। গাছগুলো বড় লেকের চারদিক হয়ে উঠবে ঘন সবুজ এক গাছের প্রাচীর। বিকেলের নরম আলোয় এ লেকের রূপ শিক্ষার্থীদের আড্ডাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এখানে বসলে এক ধরনের শান্তি পাওয়া যায়, যা ক্যাম্পাসের কোলাহলকেও ভুলিয়ে দেয়। অনেকের ভাষায়, এটি এখন “শাবিপ্রবির হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি” যেখানে প্রকৃতি, সৌন্দর্য আর শিক্ষার্থীদের আবেগ একসাথে মিলে যায়।

তবে সম্প্রতি বহিরাগত একজন লোক লেক থেকে শাপলা তুলে বিক্রি করার চেষ্টা করলে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, লেকের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা আরও চান, লাল শাপলার পাশাপাশি জাতীয় ফুল সাদা শাপলা ও পদ্ম লাগানো হোক, যাতে লেকটি ঋতুভেদে রঙিন রূপে সেজে ওঠে। গোলচত্বরের কাছে অবস্থিত হওয়ায় তারা এখানে বসে সময় কাটানোর জন্য স্থায়ী বসার জায়গারও দাবি তুলেছেন।

রসায়ন বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম সজিব বলেন,“সময় কাটানোর জন্য কিংবা বিকেলে বসে থাকার জন্য এই লেক উপযুক্ত জায়গা। এখানে বসে গ্রামীণ আবহ পাওয়া যায়। সকালে ফুলগুলো দেখতে সত্যিই মন ভরে যায়। আমরা চাই প্রশাসন যেন এর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি না করে। এটা আমাদের ক্যাম্পাসের অন্যতম সুন্দর জায়গা।”

এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন“ব্যস্ত জীবনে সময় পাওয়া যায় না। আজ আবহাওয়া বাধ্য করল লেকের ফুডকোর্টে বসে থেকে বৃষ্টি উপভোগ করতে। সত্যিই এই লেক ক্যাম্পাসের সবচেয়ে শান্ত আর সুন্দর জায়গা।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বলেন,“আমরা শুরু থেকেই লেকের সৌন্দর্য রক্ষায় সচেতন। চারপাশে ফুল ও গাছ লাগানো হয়েছে। পানির স্তর স্বাভাবিক থাকায় এখানে শাপলা আশানুরূপ ভালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ লাগানো হয়েছে, যা পাখিদের খাদ্যের কথা চিন্তা করে নির্বাচন করা হয়েছে। সাদা শাপলা লাগানো হয়েছে, শিগগির অন্যান্য প্রজাতির শাপলাও লাগানো হবে। পদ্মফুল নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আপাতত লেকের ধারে স্থায়ী বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। নির্মাণাধীন বাস ডিপোর কাজ শেষ হওয়ার পর সেগুলো তৈরি হবে।

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার