এসমপি কমিশনারকে ফোন: সেই আ’লীগ কর্মীকে খোঁজছে পুলিশ
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১০:৫৩ PM

এসমপি কমিশনারকে ফোন: সেই আ’লীগ কর্মীকে খোঁজছে পুলিশ

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২/১০/২০২৫ ০৮:২২:৫০ PM

এসমপি কমিশনারকে ফোন: সেই আ’লীগ কর্মীকে খোঁজছে পুলিশ

ছবি: নিজস্ব


সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসমপি) কমিশনারের সাথে ফোনালাপের একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই কল রেকর্ডে ‘সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজন যেন প্রকাশ্যে থাকতে না পারে’- ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের এমন এক ‘নির্দেশনা’ নিয়ে কল করা ব্যক্তিকে নানা প্রশ্ন করতে শোনা যায়।

তবে পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে নানা প্রশ্ন করা ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও ওই কল রেকর্ডে তিনি নিজেকে ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দেন।

ওই ব্যক্তি পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীকে বলেন- ১৬ বছর আমরা আপনার কি ক্ষতি করেছি যে, আপনি প্রতিদিন দুইজন করে সিলেটের আওয়ামী লীগ কর্মী ধরার কথা বলেছেন। আপনারা পুলিশ হত্যার বিচার না চেয়ে আমাদের পেছনে লেগে আছেন। আমরা কি ক্ষতি করেছি?

ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়- ‘আপনাদের এতোগুলো পুলিশ হত্যা করলো। সেটার বিচার চাচ্ছেন না। উল্টা আমরা বিচার চাইতেছি। কিন্তু আমাদের রাস্তাঘাটে থাকতে দিচ্ছেন না।

এসময় পুলিশ কমিশনার তাকে জিজ্ঞেস করেন- ‘কে থাকতে দিচ্ছে না, কে এটা বলেছে?’

এসময় ওই ব্যক্তি পুলিশ কমিশনারের নামে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এসময় এসএমপি কমিশনার ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মী বলে দাবি করেন।

গত সোমবার এসএমপি পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনার অংশবিশেষ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ডিসেম্বরের মধ্যে এসএমপির আওতাধীন এলাকায় কোনো আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের লোকজন প্রকাশ্যে যাতে এলাকায় না থাকতে পারে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সব অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এসি, এডিসি ও ডিসিরা এ বিষয়ে তদারকি করবেন।’

অবশ্য বুধবার (১ অক্টেবর) নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন,‘আমাদের নির্দেশনা নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ সভায় ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করতে বলা হয়েছ। তারা প্রকাশ্যে যাতে কোনো মিছিল-মিটিং করতে না পারে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল হওয়া এই বক্তব্য পুলিশের নয় বলেও দাবি করে ন তিনি।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফোন কলকারী ব্যক্তিতে এখনও সনাক্ত করা যায়নি। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ওই ব্যক্তি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আশা করছি ওই ব্যক্তি দেশে থাকলে দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে।

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার