ছবি:নিজস্ব
এশিয়া মহাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, যার মোহনীয় সৌন্দর্য আর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য প্রতি বছর হাজারো পর্যটককে টানে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই অনন্য প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যটি এক গভীর সংকটে পড়েছে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে রাতের আঁধারে চলছে নির্বিচারে মাছ নিধন। এই বেআইনি কার্যক্রম শুধু পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যই নয়, বরং পর্যটন এবং স্থানীয় জীবিকাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাতারগুল বন বিভাগ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং তিনঘাট এলাকার নৌকা মাঝিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের সংরক্ষিত এলাকায় গভীর জলে পেতে রাখা ৩১টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত জালের বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা। দুপুর ৩টার দিকে রাতারগুলের মটরঘাট এলাকায় জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় এসব ব্যবহার করতে না পারে।
রাতারগুল সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহবুব আলম জানান, গত দুই দিন ধরে আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, রাতারগুলের গভীরে কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতে নিষিদ্ধ জাল পেতে মাছ শিকার করছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগ, কমিটির সদস্য ও স্থানীয় মাঝিদের নিয়ে যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানেই ৩১টি জাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “রাতারগুলের পরিবেশ রক্ষায় আমরা শূন্য সহনশীল নীতি অনুসরণ করছি। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রাতারগুল বন বিভাগের কর্মকর্তা, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা, স্থানীয় তিনঘাট নৌকা মাঝি সমিতির কয়েকজন প্রতিনিধি।
বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “রাতারগুল শুধু একটি বন নয়, এটি একটি জীবন্ত পরিবেশতন্ত্র। এখানে মাছ, পাখি, উভচর প্রাণী, সরীসৃপসহ শতাধিক প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ এবং ডিম পাড়ার সময়কার প্রজাতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে।যার ফলে আমরা আজ অভিযান পরিচালনা করেছি এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




