জৈন্তাপুরে নাতির হাতে প্রা*ণ গেল নানির
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:০৪ AM

জৈন্তাপুরে নাতির হাতে প্রা*ণ গেল নানির

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/১০/২০২৫ ০১:৩৬:২০ PM

জৈন্তাপুরে নাতির হাতে প্রা*ণ গেল নানির

প্রতীকী ছবি


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন নাতির ইটের আঘাতে প্রাণ গেল ৯০ বছর বয়সী নানির। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের নাম আজিবুন নেছা (৯০)। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী। এ ঘটনায় নাতি সুমন আহমেদকে (২২) আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমন আহমেদ ছোটবেলায় তার মা-বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন-পালনে বড় হন। চার মাস পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান। 

এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে তার মানসিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতেন, সে ঘরেই সুমনের পাশের একটি বিছানায় ঘুমাতেন নানি আজিবুন নেছা। শনিবার রাত ১১টার দিকে  নানি ঘরে এসে দেখেন সুমন একটি ইট দিয়ে শিকলের তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানি তখন তাকে বাধা দিতে এগিয়ে গেলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। এ সময় ঘটনাস্থলেই নানির মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পান। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলেন। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানির নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছেন। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ঘটনাস্থলে গিয়ে নাতি সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে সুমনের মাঝে কোনো অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায়নি। সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিল। 

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।


জৈন্তা বার্তা/আরআর