সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এই আসনটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে এ অঞ্চলের অন্যতম সংসদীয় আসন। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনের পরেই এ আসনটি সব রাজনৈতিক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইউরিয়া সার কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এই আসনের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত। নানা কারণে সিলেট-৩ আসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। একসময় সিলেট-৩ আসন জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসনটি ধরে রাখতে পারেনি জাতীয় পার্টি। অতীতে এই আসন থেকে জাতীয় পার্টি ৫ বার, বিএনপি ৩ বার এবং আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ৪ বার জয়ী হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার মনোনয়নের দৌড়ে বিএনপির ৬ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো এরই মধ্যে তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
ধানের শীষ প্রতীক পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর বিএনপি সহসভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন।
ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা লুৎফুর রহমান কাসেমী এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা রেজাউল হক চৌধুরী রাজু নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল হুদা জুনেদের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।
ধানের শীষ প্রত্যাশী যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। সবকটি আন্দেলনে আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। যুক্তরাজ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই করতে গিয়ে আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন দেশে আসতে পারিনি। দল আমার অতীত মূল্যায়ন করবেন বলে আমি আশাবাদী।’
জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর সকল আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। আওয়ামী সরকারের সময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এবার আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী। দল আমাকে নিরাশ করবেন না বলে আশাবাদী।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছি। দলের কঠিন সময়ে মাঠে ছিলাম। আমি ধানের শীষ প্রত্যাশী। আশাবাদী দলের হাইকমান্ড আমার অতীতের সকল কর্মকান্ড মূল্যায়ন করবেন।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি মাছে সক্রিয় রয়েছি। নির্বাচনী এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লার বিজয় এবার কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
জৈন্তা বার্তা/আরআর




