সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন। আসনটি থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, ৩ বার জাতীয় পার্টি, ২ বার স্বতন্ত্র ও ১ বার করে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটের শরীকদের। তবে এবার জোট হলেও শরীক নয়, দলীয় প্রার্থী চান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এবার বিএনপির ৯ জন এবং জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের একক প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এ আসন থেকে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী। এরপর আসনটিতে বিএনপির কোন নেতা প্রার্থী হওয়ার সুযোগই পাননি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন আব্দুল কাহির চৌধুরী।
একই বছর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষ প্রতীক নেন এমএ মতিন চৌধুরী। এরপর ৮ম ও ৯ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে আসনটি বাগিয়ে নেয় জোটসঙ্গী জামায়াত। ২০০১ সালে বিএনপির সাথে জোট করে সংসদে যান জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তবে ২০০৮ সালে তিনি হেরে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফের আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। প্রার্থী হন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তাকে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার।
বার বার জোটের শরীকদের আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বলছেন এবার জোট হলেও তারা আসন ছাড়তে রাজি নন। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে চান তারা।
আসনটিতে এবার মনোনয়ন চাইবেন বিএনপির ৯ নেতা। তারা হচ্ছেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আশিক উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি মামুনুর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহসভাপতি শরীফ আহমদ লস্কর, আবুল হারিছ চৌধুরী কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক লুৎফা খানম চৌধুরী স্বপ্না।
আসনটিতে জামায়াতে ইসলাম দলটির জেলার নায়েবে আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসেন খানকে ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষনা করেছে। এ ছাড়াও ইসলামী দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার উপদেষ্টা মুফতি আবুল হাসান, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী ও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী রেজাউল করীম আবরার নিজ নিজ দলে প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলার উপদেষ্টা আশিক উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমি রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক রহমানের ৩১ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। বাকিটা সময় হলে দেখা যাবে।’
মনোনয়নপ্রত্যাশী সিদ্দিকুর রহমান পাপলু বলেন, ‘২০২৪ সালের নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে আমি ঢাকায় পুলিশ হত্যা মামলার আসামী হয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। আশা করি দল আমাকে মুল্যায়ন করবে।’
জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার বিভিন্ন ইস্যুতে সরব রয়েছি। দল এবার আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদী।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘দল আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আমি এলাকায় নানা সামাজিক কাজে যোগ দিচ্ছি। সাধারণ ভোটারদের কথাবার্তা শুনছি। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলেও জানান।’
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বির আহমদ, সাইফুদ্দিন খালেদ, এম এ মতিন ও এম জাকির হোসেন, জতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী সালমান খুরশেদ, জেলার প্রচার সমন্বয়কারী মাওলানা মুফতি ছালিম আহমদ খাঁ, শ্রমিক উইং কেন্দ্রীয় সংগঠক শিব্বির আহমদ প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




