ছবি:সংগৃহীত
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নেমেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ থেকে আসা এক অন্তঃসত্ত্বা রোগীর চিকিৎসা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে হাসপাতালের চারতলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান রোগীর স্বজনরা। খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক নারী ও দুই পুরুষকে আটক করে।
আটকরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়া (৩০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রোগীর স্বজনদেরও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ঘটনার পরপরই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শনিবার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বৈঠক শেষে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতা ডা. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আলোচনায় বসেছেন-এটাই প্রমাণ করে তারা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চান। আমরা আশাবাদী দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যেও ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রাররা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে জরুরি সেবা চালু রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে কোতোয়ালী মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার আবারও হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়া হবে কি না-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




