ছবি:সংগৃহীত
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কুশিয়ারা-কালনী নদী। নদীটি দিনের পর দিন ভয়ানক রূপ ধারণ করছে। নদীতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে সাহানগরের শতাধিক পরিবার।
গত দুই বছরের ভাঙনে নদীর তীরের অনেক ফসলি জমি তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে। সম্প্রতি এ ভাঙন পৌঁছে গেছে কারও বাড়ির আঙিনায়, আবার কারও বা দোরগোড়ায়। প্রতিদিন ভাঙনের ফলে অনেকের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে নদীটি। এর আগে একই এলাকার উমেদনগর, কণ্যাজুরি, নজরাকান্দা, কাদিরপুর, সৌলরী, মনিপুর, বদরপুর ও কালনীপাড়ার ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে গেছে কুশিয়ারা নদীর গর্ভে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকবার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় পাউবো'র জরুরি ফান্ড থেকে নদী রক্ষা প্রকল্পের কোনো কাজ করা হয়নি।
চলতি বছরও কুশিয়ারা-কালনী নদীর তীরবর্তী কাকাইলছেও ইউনিয়নের সাহানগর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও ভাঙনরোধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা বা আশ্বাস মিলেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ থেকে।
বুধবার বেলা ১১টায় সাহানগর গ্রাম এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের প্রায় দেড়শ মিটার জায়গায় নির্মাণকৃত বসতঘর ও বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় সাহানগর গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজনের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক লিটন রায় জানান, সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে সাহানগর গ্রাম সংলগ্ন কুশিয়ারা-কালনী নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে ওই গ্রামের অন্তত ৮ থেকে ১০টি পরিবারের বসতঘর, গাছপালা ও বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙন প্রতিরোধে সনাতন পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও কোনো ধরনের প্রতিকার হচ্ছে না। কয়েকদিন ধরে আবারও পার্শ্ববর্তী সৌলরী গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হবিগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ চৌধুরী বলেন, কাকাইলছেওয়ের সাহানগর গ্রামের লোকজন এসেছিলেন। গ্রামের সবাইকে একত্রিত হয়ে একটি আবেদন করার কথা বলে দেওয়া হয়েছে। এতে করে এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে জরুরি ফান্ড থেকে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমি এখন অবগত হলাম। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




