সংগৃহিত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে একটি আদর্শ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-জামেয়া দারুল হাবীব মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটি কোরআন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছে। বিশেষ করে হেফজ বিভাগে শিক্ষার্থীদের সাফল্য অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
২০১৮ সালের ২ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল এরশাদ হযরত মাওলানা সুফী এ.এস.এম. অদুদুর রহমান (রাঃ)। বর্তমানে মাদ্রাসাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ। প্রায় ২৫০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বাউন্ডারি ও গেইটলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে।
মাদ্রাসাটিতে আলিয়া, হেফজ ও নূরানি—এই তিনটি বিভাগ চালু রয়েছে। আলিয়া বিভাগে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়, যেখানে আরবি, বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী নিয়মিত পাঠদান করছেন। বর্তমানে এ বিভাগে ৭ জন শিক্ষক ও ৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
অন্যদিকে, হেফজ বিভাগে বর্তমানে ৬৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যাদের পাঠদান করছেন ৪ জন দক্ষ শিক্ষক। অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোরআন হেফজ করানো হয়। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চালু হওয়া এ বিভাগটি মাত্র ছয় বছরে ২১ জন হাফেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সম্প্রতি এ মাদ্রাসার মেধাবী শিক্ষার্থী হাফেজ সীরাত হোসেন (১০) মাত্র সাত মাসে পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। তার এই অসাধারণ কৃতিত্বে শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ক্বারী মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত যত্নসহকারে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে থাকি। আমাদের সকল শিক্ষক আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যার ফলেই এমন সাফল্য আসছে।
হেফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারী আনোয়ার হোসাইন জানান, “এ পর্যন্ত ২১ জন শিক্ষার্থী কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে হাফেজ হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পরিচালক কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রতিষ্ঠাতার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা একটি আদর্শ ইসলামী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এখানে শিক্ষার্থীরা যেন দ্বীন ও দুনিয়ার জ্ঞান অর্জন করে সমাজে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, জামেয়া দারুল হাবীব মাদ্রাসা ইতোমধ্যে এলাকায় কোরআন শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




