জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়ক সংস্কারহীন দেড় যুগ জনদুর্ভোগ চরমে
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ AM

জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়ক সংস্কারহীন দেড় যুগ জনদুর্ভোগ চরমে

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০৪/২০২৬ ১২:৫৭:১৬ AM

জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়ক  সংস্কারহীন দেড় যুগ  জনদুর্ভোগ চরমে

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়ক গত দেড় যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলছে যানবাহন। সড়কটির বেশির ভাগ অংশ ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে থাকার কারণে তা বিপদজনক সড়কে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কটি দিয়ে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন, পাইলগাঁও ইউনিয়ন ও আশারকান্দি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পার্শ্ববর্তী সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বেগমপুর হয়ে সিলেটসহ অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ৯০ দশকের শেষের দিকে উল্লেখিত এলাকার জনসাধারণের যোগাযোগের স্বার্থে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়কপথে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করায় ক্রমেই এই পাকা সড়ক ভাঙাচোরা সড়কে পরিণত হয়েছে। নির্মাণের দেড় যুগেও সড়কটি সংস্কার হয়নি।

২০২২ সালের বন্যায় জগন্নাথপুর থেকে আশারকান্দি ইউনিয়নের কালনিরচর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কটি ভেঙে যায়। এসব ভাঙা স্থান আর মেরামত করা হয়নি। যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। কাদা আর গর্তের কারণে তাদের প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা এখন যন্ত্রণার নামান্তর। জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে, যা চালকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ রোড হয়ে পাইলগাঁও বডিং থেকে শুরু করে বেগমপুর পর্যন্ত সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি, জনস্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়। তারা বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি। এখন আর এই ভোগান্তি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা চাই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত এই মরণফাঁদ সড়কটি সংস্কার করে আমাদের নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেবেন। জগন্নাথপুরের এই অবহেলিত জনপদের হাজার হাজার মানুষের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

এ রাস্তায় চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক লুলন মিয়া বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদার কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই রাস্তাটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এই রাস্তার সাথে সংযুক্ত কয়েকটি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই। বছরের পর বছর যায়, কিন্তু রাস্তার কোনো পরিবর্তন হয় না। প্রতিদিন আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কাদামাখা পথ পাড়ি দিতে হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ঘোষগাঁও ব্রিজ থেকে কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগ পর্যন্ত ২ হাজার ৩শ মিটারের কাজ চলমান আছে। প্রায় দেড় বছর আগের কাজ এটি। কার্পেটিং করা এখনও বাকি। বাকি কাজগুলো করবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদার। কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আরও ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ এ বছর আমরা অনুমোদন পেয়েছি। এটার টেন্ডার হয়ে গত মাসে ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। ঠিকাদারের সাথে চুক্তি হয়েছে, কাজ শুরু হবে। এই দুটো কাজ শেষ হলে আমাদের রাস্তার কাজ মোটামুটি শেষ হবে। পুরো কাজ শেষ হলে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমে যাবে।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ