পিছিয়ে পড়া জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থী শামীম
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ AM

‘আলো ছড়াও শিক্ষার পথে’

পিছিয়ে পড়া জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থী শামীম

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/০৪/২০২৬ ১১:৩১:০০ PM

পিছিয়ে পড়া জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থী শামীম

ছবি: জৈন্তা বার্তা


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম শিবজয়নগরে শিক্ষার আলো ছড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিকেল স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম মিয়া। নিজের টিউশনের আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করে তিনি গ্রামের দরিদ্র শিশুদের জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম।

শামীম মিয়া শিবজয়নগর গ্রামের মলাই মিয়ার ছেলে। ২০১৩ সালে পিতাকে হারান তিনি। তার মায়ের নাম সালেহা খাতুন। জানা যায়, শামীম মিয়া তার গ্রামের প্রথম শিক্ষার্থী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। ব্যক্তিগত এ সাফল্যকে তিনি শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে কাজ শুরু করেন।

এই লক্ষ্যেই তিনি ‘আলো ছড়াও শিক্ষার পথে’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেন। উদ্যোগটির আওতায় নিয়মিত মহল্লাভিত্তিক অভিভাবক সচেতনতা সভা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে নিজের অর্থ দিয়ে খাতা, কলম ও বই কিনে পুরস্কার প্রদান করেন তিনি।

শামীমের এই কার্যক্রমের বিশেষ দিক হলো এর অর্থায়ন। নিজের টিউশনের কষ্টার্জিত অর্থ থেকেই তিনি এসব উদ্যোগ পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি তার এ মহৎ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু প্রবাসী ও শুভানুধ্যায়ীও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, ফলে কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

শুধু শিক্ষাসামগ্রী বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় তার কাজ। তিনি গ্রামের মানুষকে বাল্যবিবাহের কুফল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করছেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে স্কুলমুখী করা এবং অন্তত মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

শামীম জানান, তার শৈশবের বিদ্যাপীঠ বরতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এ বছর তিনি নিজের অর্থ থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। এছাড়া প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে খুতবায় শিক্ষা ও সরকারি বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। রমজান মাসে শিশুদের আরবি শিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে বিশেষ অনুদানও প্রদান করেন।

শামীম মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এমনকি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হাফেজ, আলেম ও কারির সংখ্যাও খুবই কম। তাই গ্রামের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের মতে, শামীমের এ উদ্যোগ গ্রামে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ