এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ PM

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০/০৪/২০২৬ ১০:২২:৪৪ PM

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি:সংগৃহীত


বাংলাদেশকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। তিনি বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও ৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে সহজ শর্তে ও সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় স্বল্পমূল্যের জ্বালানি দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নানা বহিরাগত চ্যালেঞ্জ।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া কনসেশনাল ঋণের সুযোগ ইতোমধ্যে কমে এসেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সংকুচিত হবে। ফলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য।

তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা জরুরি। শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতা সক্ষমতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমানো না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে।

অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জিডিপিতে অবদান বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

চুক্তির আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশন মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটির বেশি ঋণ সহায়তা দেবে। এর মধ্যে রিভলভিং ফান্ড থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। উদ্যোক্তারা সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন, যার সুদের হার ৮ শতাংশ।

এছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)-এর মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতের সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ১২৫ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ প্রকল্পে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়ালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ