সংগৃহিত
স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের ভাইয়ের ছেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন গ্রেপ্তার-সুরক্ষা দিয়েছে কলকাতা উচ্চ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র এ নির্দেশ দেন। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আদালত জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং দিল্লি থেকে ফেরার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় নগর পুলিশের দপ্তরে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আদালত উল্লেখ করে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তদন্তকারী সংস্থা আইন অনুযায়ী তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে তদন্তকারী সংস্থাকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
মামলার সূত্রপাত হয় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তৃণমূলের সৌগতদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি প্রস্তাবকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ওই প্রস্তাবে দলের কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রস্তাবটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, প্রস্তাবটি মনগড়া ও জালিয়াতিপূর্ণ। তারা ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে ১৪টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
পরে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাদের নাম প্রকাশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
গত ৪ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস একের পর এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতা হারানোর পর দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




