ছবি:সংগৃহীত
‘নদীর জন্য মানুষ, মানুষের জন্য নদী’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নদী মেলা ২০২৬’। নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় এবং নদী রক্ষায় সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১৫ জুন) সিলেট বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড সিলেটের হলরুমে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নদীর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, নাব্যতা সংকট, দূষণ ও অবৈধ দখলের কারণে দেশের নদীগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
তিনি বলেন, নদী রক্ষায় সরকার পুনঃখনন, নদীর তীর সংরক্ষণ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে নদী রক্ষা সম্ভব নয়। এজন্য স্থানীয় জনগণ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নদী মেলা ২০২৬ নদী বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন সিএনআরএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিম হোসেন আদর। তিনি বলেন, ‘এই মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি নদী নিয়ে জ্ঞান বিনিময়, সংলাপ ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অক্সফাম নেদারল্যান্ডসের প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট লিড ভেরোনিকা বারকো জোরামস, পলিসি লিড (ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স) পেত্রিকেলা ইয়োহানা ফ্রান্সিস্কা মারিয়া, অক্সফাম নেপালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজন সুবেদি, নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ঢাকার সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার (ওয়াটার) ড. মো. সিবলী সাদিক, অক্সফাম নেপালের রিসার্চ অ্যাডভাইজার সংঘা শ্রেষ্ঠা এবং অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল-এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এনামুল মজিদ খান সিদ্দিকী।
এছাড়াও নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, অক্সফাম, টিআরওএসএ প্রোগ্রাম, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, নদী ও মানুষের সম্পর্ক রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। নদী সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক আন্দোলন শক্তিশালী করা এবং প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তুলে ধরাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।
আয়োজকরা জানান, ‘দ্যা পিপলস রিভারস্কেপ’ প্রকল্পের আওতায় পিয়াইন, সারি ও ধলাই নদীর অববাহিকায় অংশগ্রহণমূলক নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের সমন্বয়ে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




