সরকারি অনুদান বিতরণে অ*নিয়ম আজমিরীগঞ্জে ব*ঞ্চিত ক্ষ*তিগ্রস্ত কৃষকরা
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ AM

সমালোচনার ঝড়, পুনঃতদন্ত দাবি

সরকারি অনুদান বিতরণে অ*নিয়ম আজমিরীগঞ্জে ব*ঞ্চিত ক্ষ*তিগ্রস্ত কৃষকরা

আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫/০৬/২০২৬ ১২:৪৫:২৬ AM

সরকারি অনুদান বিতরণে অ*নিয়ম  আজমিরীগঞ্জে ব*ঞ্চিত  ক্ষ*তিগ্রস্ত কৃষকরা

ছবি: জৈন্তা বার্তা


হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদান বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে বরাদ্দের সিংহভাগ স্থানীয় প্রভাবশালীদের স্বজন ও অকৃষকদের মাঝে বিতরণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ  সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুদানের তালিকায় এমন অনেকের নাম রয়েছে যাদের জমির কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকি কৃষক নন এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ যাদের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, তারা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এলাকায় বিশৃঙ্খলার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না।

তবে তালিকা তৈরিতে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর। আর অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জলসুখা ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাইয়ুম মিয়া বলেন, আমি হতদরিদ্র মানুষ। আমার ৬ কেদার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু সরকারি অনুদান পাইনি। অথচ যারা জমি চাষই করেনি বা যাদের জমি ডোবেনি, তারা অনুদান পেয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী লোকজন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঠকিয়েছেন।

একই গ্রামের নজরুল মিয়া অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে পকেট তালিকা তৈরি করেছে। আমার ৫ কেদার জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করার পরও সেই তালিকায় আমার নাম নেই। যাদের জমি তলিয়ে যায়নি এবং যারা চাষই করেননি, তাদের নাম আছে। নাম প্রকাশ করলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা হবে।

জলসুখা ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, আমার প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেদার জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঋণ করে জমি চাষ করেছিলাম। কিন্তু তালিকায় আমার নাম আসেনি। অথচ যাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তাদের নাম এসেছে। আমি প্রমাণ দিতে পারব। এই তালিকা পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

বদলপুর ইউনিয়নের নিজাম্মল সূত্রধর ও সুশীল চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের ৪ থেকে ১০ কেদার জমি তলিয়ে গেছে। কিন্তু অনুদানের তালিকার জন্য এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ কোনো নেতাকর্মী আমাদের নাম ও ভোটার আইডি নেননি। অথচ অনেকেরই নাম-আইডি নেওয়া হয়েছে।

একই ইউনিয়নের দিঘলবাগ গ্রামের বর্গাচাষি সন্তোষ চন্দ্র দাস বলেন, আমার ১০ কেদার জমি তলিয়ে গেছে। এলাকার নেতাকর্মীরা নাম ও ভোটার আইডি নিয়েছেন, কিন্তু এখনো কোনো অনুদান পাইনি।

ভুক্তভোগী কৃষকরা কৃষি বিভাগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুদানের তালিকা পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সঠিক জরিপ ছাড়াই তৈরি করা তালিকার কারণে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, তালিকা তৈরির সময় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিদের সমন্বয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে পুনরায় অনুদান বিতরণ না করলে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ আরও বাড়বে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ