রায়নগর হ*ত্যাকা*ণ্ড: বাবুলের রি*মান্ড শেষ, সামনে নতুন প্রশ্ন
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০২ PM

রায়নগর হ*ত্যাকা*ণ্ড: বাবুলের রি*মান্ড শেষ, সামনে নতুন প্রশ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯/০৮/২০২৬ ০৮:৩৬:৫২ PM

রায়নগর হ*ত্যাকা*ণ্ড: বাবুলের রি*মান্ড শেষ, সামনে নতুন প্রশ্ন

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকার মিতালি আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার বাবুল মিয়ার চার দিনের রিমান্ড আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) শেষ হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের মঞ্জুর করা চার দিনের রিমান্ড আজ শেষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হবে। এ সময় তিনি চাইলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে জবানবন্দি দিতে পারেন। তবে পুলিশ তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করলে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করতে পারে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া যে তথ্য দিয়েছেন, তার বরাতে জানা গেছে, রং করার কাজের সূত্রে নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে তাদের সম্পর্ক প্রেমের পর্যায়ে ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বুধবার সকালে বাবুল মিয়া ছুরি নিয়ে নিকুঞ্জ ভিলায় যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে বাবুল মিয়া তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক বর্ণনায় উঠে এসেছে। এ সময় গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয় এবং তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এরপর গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গেও বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া ছোরাটি রায়নগর এলাকার একটি খালি জায়গায় ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্থান থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ছোরায় শুকনো রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে ছোরায় থাকা রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছোরাটির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা নিয়ে পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া গৃহকর্মী তাহমিনার আচরণে ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল-তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য, জব্দ করা আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসা ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং দ্রুত একটি বিশেষ টিম গঠন করে।

প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানান।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আব্দুস সাত্তার (৮২) সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ও প্রবীণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের বয়স ছিল ৭৬ বছর। তাঁদের সঙ্গে বাসায় থাকতেন গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।

এ ঘটনায় নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা দেশে ফিরে আসার পর গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আসরের নামাজের পর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের মানিক পীরের টিলায় দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের সন্তানদের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখন রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

জনদু*র্ভোগ কমাতে অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছি: সিসিক প্রশাসক
রায়নগর হ*ত্যাকা*ণ্ড: বাবুলের রি*মান্ড শেষ, সামনে নতুন প্রশ্ন
বাসযোগ্য নগরী গড়তে জলাশয় উদ্ধারে গুরুত্ব দিচ্ছি: কাইয়ুম চৌধুরী
চুনারুঘাটে ধানক্ষেতে মিলল যুবকের র'ক্তা'ক্ত ম'রদে'হ
সিলেটে হা'মের উপসর্গে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৩৯
জৈন্তাপুরে চারটি নৌকা ধ্বং'স, ৭ হাজার ঘনফুট বালু জ'ব্দ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে কাজ করছি: সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে নামজারি করতে গিয়ে চ*রম ভো*গান্তিতে ভূমি মালিকরা
স্লিপার বাস ব*ন্ধ না করলে গাড়ি জ*ব্দের হুঁশি*য়ারি
গোয়াইনঘাটে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে আমন রোপণের ধুম, কৃষকের চোখে সোনালি স্বপ্ন