সংগৃহীত
প্রতিটি সন্তানের জীবনে বাবা হলেন ভালোবাসা, সাহস, নিরাপত্তা ও নির্ভরতার প্রতীক। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বাবা দিবস। এ উপলক্ষে আজ রোববার প্রয়াত কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী মাহমুদুন্নবীকে স্মরণ করে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী।
বাবা দিবস ও বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে নিজের ফেসবুক দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বাবার স্মৃতি, সংগীতচর্চা এবং বর্তমান সময়ের সংগীতাঙ্গন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন গুণী এই সংগীতশিল্পী।পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘আজ বাবা দিবস। আজ সংগীত দিবস। সংগীত পরিবার, সংগীত নিয়ে বসবাস যাদের, তাদের স্মৃতিচারণে সুর বিষয়টাই বেশি করে প্রতীয়মান হয়ে ওঠে। একজন শিল্পী মাহমুদুন্নবী বেশি প্রধান হয়ে ওঠেন কিছু লিখতে গেলে। সবার ভালোবাসায় গানে গানে যার বেঁচে থাকা শ্রোতার মনে। আমাদের গর্ব হয়। আর বাবা তো ছায়া সব সন্তানের কাছেই। সে ছায়া চিরকালের জন্যই।’বাবাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে ফাহমিদা নবী বলেন, মাহমুদুন্নবী তার কাছে শুধু একজন বাবা নন, তিনি একটি আয়না, যেখানে তিনি নিজেকে দেখতে পান।
লিখেছেন, ‘আব্বা আমার আয়না। আমি আমাকে দেখি সেই আয়নায়। আমার পরিবার, ভাই-বোন, আম্মা, আমাদের সন্তানরা ও বাবার শ্রোতারা-প্রত্যেকে আমার আয়নার অংশ। যে আয়নার আলোকে পথ চলার সাহস এক ধরনের ধৈর্য তৈরি করেছে।’সংগীত ও শিল্পচর্চা নিয়ে নিজের দর্শনের কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। তার মতে, গান কখনও প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; বরং তা অনুভব ও শ্রবণের বিষয়। সংগীতের সঙ্গে রুচিশীলতা, স্নিগ্ধতা এবং গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বাবার শিল্পীসত্তার প্রশংসা করে ফাহমিদা নবী লিখেছেন, ‘মাহমুদুন্নবীর মতো শিল্পী যুগে যুগে একবারই আসে। যাকে মানুষ ভালোবাসে তার সুরের অলংকরণ আর বিনয়ের কারণে। আজও মানুষ বলে- কত ভালো মানুষ ছিলেন, কত বড় বিনয়ী শিল্পী ছিলেন। তার মতো সুরের রাজা আজও দেখলাম না।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং অসংখ্য শ্রোতারও একই মূল্যায়ন। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমান সংগীতাঙ্গনের প্রসঙ্গ টেনে ফাহমিদা নবী আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘এখন প্রকৃত শিল্পীর চেয়ে তারকার সংখ্যা বেশি। তবে মাহমুদুন্নবীর কণ্ঠ ও সংগীতসাধনা এখনও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।’সবশেষে ফাহমিদা নবী লিখেছেন, ‘আমরা যেন তার সেই সম্মান ধরে রাখতে পারি।’
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




