ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ চার বছর ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ঠিকাদার নিয়োগের পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় কাজ বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজের আওতায় জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচটি সেতু নতুন করে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেতুগুলো হলো-কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু, পাটলি ইউনিয়নের লাউতলা ও রসুলগঞ্জ সেতু এবং মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীरामসি গ্রামের সেতু।
প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল। গত ৩০ জুন প্রকল্পের কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় জুলাই মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাজ বাতিল করা হয়।
কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের তরুণ সমাজকর্মী ফাহিম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মনে হয়, এসব দেখার কেউ নেই। শুনেছিলাম টেন্ডার হয়েছে, সেতুর কাজ হবে। কিন্তু কাজের কোনো খবর নেই। এখন শুনছি, আবার নতুন করে টেন্ডার দিতে হবে।
ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, দুঃখের কথা বলার ভাষা নেই। ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে সেতু ও সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কবে ঘোষগাঁও সেতুর কাজ ও শিবগঞ্জ সড়কের কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় রয়েছি।
লাউতলা গ্রামের দবির মিয়া বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু নির্মাণ না হওয়ায় যাতায়াতব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আমরা ক্লান্ত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমরা ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের চিঠির কোনো জবাব দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করায় তাদের কাজ বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




