ছাতকে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ PM

বক্তব্য বিকৃত করে অপপ্রচারের অভিযোগ

ছাতকে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ০৬:৩৬:২৯ PM

ছাতকে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমারেখা দিয়ে প্রবাহিত সোনাই নদীপথে ছাতক-আসাম রুট চালু ও শুল্ক স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ সুফি আলম সোহেল। এর প্রতিবাদে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইসলামপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের সম্মেলন কক্ষে সোনাই নদী শুল্ক স্টেশন চালু-সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনারের আমন্ত্রণে তিনি ওই সভায় অংশ নেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ছাতক-দোয়ারাবাজারের ব্যবসায়ী ও সীমান্ত এলাকার মানুষের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় তিনি সভায় বক্তব্য দেন। বিশেষ করে চেলা ও ইছামতী নদীর বিদ্যমান এলসি রুট যাতে নতুন কোনো উদ্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন।

তার অভিযোগ, সভা শেষে সোনাই নদী শুল্ক স্টেশন চালুর আবেদনকারী গ্রুপের কয়েকজন সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক ভাষায় লেখালেখি করেছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ছবি বিকৃত করেও প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সোনাই নদীতে নতুন শুল্ক স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে চেয়ারম্যান বলেন, চেলা ও ইছামতী নদীর শুল্ক স্টেশনের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরও সোনাই নদীর তুলনামূলক কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। এ অবস্থায় অল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক শুল্ক স্টেশন থাকলে নতুন করে আরেকটি শুল্ক স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সোনাই নদীপথে নতুন রুট চালু হলে চোরাচালান বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বিএডিসির রাবার ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব, ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভাজন এবং সীমান্ত এলাকার পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য, সোনাই নদীতে নতুন রুট চালুর পরিবর্তে ইছামতী নদীর পাশে আবেদন করা কার্পাস রোড চালু করা হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি তার বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হাসান, ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অরুন দাশ, ইসলামপুর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান, ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিন, বাহার উদ্দিন ও ছালিক মিয়াসহ ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: