ছবি:সংগৃহীত
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেক দর্শক ও ব্রাজিল সমর্থক।
সমর্থকদের প্রশ্ন, যদি নেইমার পুরোপুরি ফিট না-ই থাকতেন, তাহলে ম্যাচের শেষ দিকে তিনি মাঠে নামলেন কীভাবে? তাদের দাবি, শেষ সময়ে যদি খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকে, তাহলে শুরু থেকেই তাকে খেলানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত ছিল।
অনেক সমর্থকের মতে, নেইমার শুধু একজন তারকা ফুটবলার নন; তিনি ব্রাজিল দলের আক্রমণের প্রাণভোমরা। মাঠে তার উপস্থিতিই সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। তার অভিজ্ঞতা, বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দলের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।
সমর্থকদের ভাষ্য, নেইমার শুরু থেকে খেললে হয়তো ম্যাচের ফল নিশ্চিতভাবে বদলে যেত-এমন কথা বলা না গেলেও ব্রাজিলের আক্রমণ আরও কার্যকর হতে পারত। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন দলটি গোলের সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি, তখন নেইমারের সৃজনশীলতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারত বলে তাদের বিশ্বাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক ব্রাজিল সমর্থক কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, নেইমারের মতো অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রেখে শুরু করা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যার খেসারত শেষ পর্যন্ত দলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েই দিতে হয়েছে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, চোট কাটিয়ে সদ্য ফেরা কোনো খেলোয়াড়কে শুরু থেকেই খেলানো নিয়েও ঝুঁকি থাকে। তাই কোচের সিদ্ধান্তের পেছনে চিকিৎসক দলের পরামর্শ ও খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবুও ব্রাজিলের বিদায়ের পর সমর্থকদের আক্ষেপ একটাই-নেইমার যদি প্রথম মিনিট থেকেই মাঠে থাকতেন, তাহলে অন্তত দলটি আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে পারত। মাঠে তার উপস্থিতিই ব্রাজিলের জন্য বাড়তি শক্তি ও প্রেরণার উৎস হতে পারত বলে বিশ্বাস করেন অসংখ্য সমর্থক।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




