ছবি:সংগৃহীত
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় পৃথক দুই দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধ ও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মরদেহ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে হাওরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাঠলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মেহরাব আলী (৫৫) বিশ্বনাথ পৌরসভার ভোগশাইল গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার সকালে ভোগশাইল এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে বজ্রপাতে মৃত্যুর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মেহরাব আলী হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবুও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের চাউলধনী হাওরের বেটুয়ার পাড় এলাকায় পানিতে ডুবে মাহিদ আলী (১৬) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহত মাহিদ উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত সাহিদ আলীর ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যোহরের নামাজের পর কয়েকজনের সঙ্গে নৌকাযোগে গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে হাওরে যান মাহিদ। একপর্যায়ে সঙ্গীদের থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে নৌকা থেকে শাপলা তুলতে শুরু করেন। কিছু সময় পর সঙ্গীরা নৌকাটি ফাঁকা অবস্থায় ভাসতে দেখে তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে নৌকা থেকে কিছু দূরে পানির নিচে শাপলা গাছের সঙ্গে জড়ানো অবস্থায় মাহিদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোজ প্রভাকর রায় বলেন, ‘ঘটনাটি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
পৃথক এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




