ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের বিয়ানীবাজারে চাঞ্চল্যকর কিশোরী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পিতা আবু বক্কর (৪৫) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান, মেয়েকে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তার কথা না মানায় তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের সময় বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে রিয়ার নানাবাড়ির পুকুরঘাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে যান। পরে ঘটনাস্থলেই রিয়ার মৃত্যু হয়।
নিহত রায়কা আক্তার রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে রিয়ার সঙ্গে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শাহিন নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। প্রায় এক মাস পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। পরে তাকে পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে বিয়ানীবাজারের ইনাম গ্রামে নানাবাড়িতে রাখা হয়। তবে সেখান থেকেও তিনি পরিচিত এক যুবকের মাধ্যমে আগের প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
সম্প্রতি আবারও প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা ক্ষুব্ধ হন এবং বৃহস্পতিবার তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন সকালে বাবার আচরণে আশঙ্কা করে রিয়ার নানী ও মামা তাকে আবার নানাবাড়িতে নিয়ে যান। পরে জুমার সময় সেখানে গিয়ে আবু বক্কর মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় নিহত রিয়ার মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় স্বামী আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির জানান, হত্যা মামলার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে প্রেমসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি মেয়েকে হত্যা করেছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




