ছবি:সংগৃহীত
টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর বাংলাদেশের উপকূলে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে আদালতের নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন শ্রীলঙ্কার এস. এইচ. চামিন্দা (৫১) এবং তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)। তাঁরা শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় জেলে।
মহেশখালী থানা-পুলিশ জানায়, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে তাঁদের মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের আগ পর্যন্ত তাঁদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সুলতান জানান, শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাঁদের শ্রীলঙ্কায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তাঁদের ব্যবহৃত ছোট ট্রলারটি শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হচ্ছে না। ওসি জানান, হাজার হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথে ট্রলারটি ফেরত পাঠানো বাস্তবসম্মত নয়। আদালতের নির্দেশে ট্রলারটি উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমানের জিম্মায় দেওয়া হবে। তিনিই গভীর সমুদ্র থেকে ঝুঁকি নিয়ে ভাসমান ট্রলারটিকে রশি দিয়ে বেঁধে মহেশখালীর উপকূলে নিয়ে আসেন।
যেভাবে বেঁচে ছিলেন বাবা-ছেলে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৬ দিন আগে চার জেলে একটি ট্রলার নিয়ে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে যান। বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভেসে যায়। কয়েক দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় দুই জেলে ফিরে যেতে পারলেও ট্রলারটি নিজেদের হওয়ায় চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সেটি ছেড়ে যাননি।
পরে তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে থাকাকালে একদল দস্যু ট্রলারে উঠে দূরবীন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান কিছু সামগ্রী লুট করে নেয়। এদিকে যাত্রার সাত দিনের মাথায় মজুত খাবার শেষ হয়ে গেলে তাঁরা বড়শির টোপ এবং সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ খেয়েই বেঁচে থাকেন। দীর্ঘদিন ভাসতে ভাসতে একপর্যায়ে তাঁদের ট্রলার বাংলাদেশের মহেশখালী উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়।
গত বুধবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জিয়াউর রহমানের ট্রলারের জেলেরা তাঁদের অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। পরে দুই জেলেকে উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং ভাসমান ট্রলারটি টেনে গত শুক্রবার রাতে মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসেন।
শনিবার রাতে শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এখন প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




