জুলাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হ/ট্টগোল, তথ্যচিত্র ঘিরে এনসিপির প্র/তিবাদ ও ওয়া/কআউট
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৩ PM

জুলাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হ/ট্টগোল, তথ্যচিত্র ঘিরে এনসিপির প্র/তিবাদ ও ওয়া/কআউট

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/০৮/২০২৬ ০৭:৪৬:৪৩ PM

জুলাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হ/ট্টগোল, তথ্যচিত্র ঘিরে এনসিপির প্র/তিবাদ ও ওয়া/কআউট

ছবি:সংগৃহীত


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই আন্দোলনবিষয়ক তথ্যচিত্রে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি-এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এনসিপির নেতারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। হট্টগোলের সময় কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিককেও হল ত্যাগ করতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তথ্যচিত্রে ‘এক দফা’ ঘোষণা ও ‘নয় দফা’ আন্দোলনের বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানান। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার অভিযোগ করেন, তথ্যচিত্রে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও ঘটনাপ্রবাহ উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

হট্টগোলের সময় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান মঞ্চে উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং তথ্যচিত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। কিন্তু দর্শকসারি থেকে স্লোগান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বক্তব্য দিয়ে প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা যেন অনুষ্ঠানকে নিজেদের প্রচারের মাধ্যম না বানান। তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের জন্য তাঁরা কী করেছেন, সেটিও বিবেচনা করা উচিত। পরে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাইকের সামনে এসে প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানে মঞ্চে উঠে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করলেও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা না হওয়ায় তাঁর পক্ষে অনুষ্ঠানে থাকা সম্ভব নয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের ঘোষণা দেন।

আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, তথ্যচিত্রে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ৯ দফা কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ঘোষিত এক দফার বিষয়টি স্থান পায়নি। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেমন একসময় একপেশেভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল, তেমনি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস নিয়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভুলত্রুটি মানুষের হতে পারে এবং তা সংশোধন করা সম্ভব। তবে বিদেশি অতিথিদের সামনে এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত। তাঁর মতে, এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

তথ্যচিত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের ছবি সেখানে ছিল না, যা একটি বড় ধরনের ত্রুটি। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তথ্যচিত্রে অনুপস্থিত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো দলীয় সম্পদ নয়। এটি জাতীয় ঐক্যের বিষয়। তিনি সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: