ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এককভাবে একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে না। সামাজিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ালে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে সমাজের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সিলেট নগরীতে ‘সিলেট বিবেক’র ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংঘ’র ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে পৃথক আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা, মানবসেবা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা, সামাজিক উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে এসব সংগঠনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে। নগর, শহর কিংবা মফস্বল-সব জায়গায় সামাজিক সংগঠনগুলো পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ালে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
তিনি বলেন, ‘সিলেট বিবেক’ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানবসেবা, শিক্ষা ও সমাজ পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করে আসছে। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একইভাবে প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংঘও দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সামাজিক সংগঠনগুলো যত বেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে, সমাজের জন্য তত বেশি কল্যাণকর কাজ করা সম্ভব হবে। নগরবাসীর কল্যাণে সিসিকের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগও প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশন রাষ্ট্রীয়ভাবে নগর উন্নয়নে কাজ করছে। সামাজিক সংগঠনগুলোও যদি নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরবাসীর পাশে দাঁড়ায় এবং সিসিকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে তাদের সহযোগী ও সহযাত্রী হিসেবে পাশে থাকবে সিসিক।
প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংঘের অভিষেক অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে কানিশাইল ও তপোবনের মধ্যে মালনীছড়ার ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করা এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সিসিক প্রশাসক ‘সিলেট বিবেক’র ১৭ বছরের পথচলার প্রশংসা করে সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংঘের নবনির্বাচিত কমিটিকেও শুভেচ্ছা জানান।
‘সিলেট বিবেক’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর অরুণ চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে এবং বাচিক শিল্পী শাশ্বতী পাল সোমা ও লেখক বিনয় ভূষণ তালুকদারের যৌথ সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের সম্পাদক স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সমাজসেবী জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, উত্তরা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত জিএম ও সমাজসেবী নীরেশ চন্দ্র দাশ, প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, সহসভাপতি সুব্রত দেব, সাধারণ সম্পাদক শীলা সাহা ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কৃষ্ণপদ সূত্রধর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব স্বপন পাল চৌধুরী। বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাপেক্সিয়ান চন্দন দাশ, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাপেক্সিয়ান জিডি রুমু, কবি সুমন বণিক ও আজীবন সদস্য দীপক কুমার দাশ। প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ। পরে সন্ধানী সিলেটের সহযোগিতায় রক্তদান কর্মসূচি এবং ৩৬ জন অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি বিতরণ করা হয়। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত পরিষদের নির্বাহী সদস্য প্রদীপ কুমার দে।
অন্যদিকে, প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংঘের অভিষেক অনুষ্ঠানে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। প্রত্যাশার আহ্বায়ক ও কানিশাইল পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশরাফ আলী মাসুম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আব্দুল হাকিম, নিয়ামত এলাহী ও সেলিম আহমদ মাহমুদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রত্যাশার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।
অভিষেক অনুষ্ঠানে সদ্য নির্বাচিত প্রত্যাশার সভাপতি সেলিম আহমদ মাহমুদ, সহসভাপতি নাজমুল হাসেন মজনু, সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আলম জুবায়ের, সহসাধারণ সম্পাদক মকসুদুল করিম ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ সালাউদ্দিন সজীব, অর্থ সম্পাদক আবদুল মুতালিব সুজন, কুতুব উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং কানিশাইল এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




