বিছনাকান্দি সীমান্তে বিজিবির মা/মলায় নিরপ/রাধ দুজনকে আ/সামি করার অ/ভিযোগ
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ PM

বিছনাকান্দি সীমান্তে বিজিবির মা/মলায় নিরপ/রাধ দুজনকে আ/সামি করার অ/ভিযোগ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১/০৯/২০২৬ ০৩:৫৪:২৮ PM

বিছনাকান্দি সীমান্তে বিজিবির মা/মলায় নিরপ/রাধ দুজনকে আ/সামি করার অ/ভিযোগ

সংগৃহিত


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির দায়ের করা একটি মামলায় সাইফুর রহমান ও কছির মিয়াকে নিরপরাধভাবে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলেছেন, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাদের আসামি করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জিরাসহ একটি নৌকা আটক করে বিজিবি। এ ঘটনায় বিছনাকান্দি বিওপির নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় সাইফুর রহমান ও কছির মিয়ার নাম থাকলেও ঘটনার সময় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তারা কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তারা দাবি করেন।

সাইফুর রহমানের বাবা আব্দুল করিম বলেন, ভারতীয় জিরা আটক এবং বিজিবি ক্যাম্পে মিছিল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি থানায় মামলা করেছে। ওই মামলায় তার ছেলে সাইফুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে যান। সেখানে তিনি তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে ক্যাম্প কমান্ডারকে জানান।

রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইফুর রহমান ও কছির মিয়া মামলায় আসামি হয়েছেন জানতে পেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে যাই। ক্যাম্প কমান্ডারকে তাদের দুজনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই বলে জানানো হলে তিনি জানান, ‘পাবলিক শনাক্ত করে দিয়েছে’—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নাম মামলায় এসেছে।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কারও কথার ভিত্তিতে কাউকে মামলায় আসামি করা ঠিক নয়। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারাও বলেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তারা।

এদিকে বিজিবির দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যদের কাজে বাধা, অশালীন ভাষায় গালাগাল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলার আসামি সাইফুর রহমান ও কছির মিয়ার পরিবারের দাবি, মামলায় তাদের নাম থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিছনাকান্দি বিওপির নায়েব সুবেদার ও মামলার বাদী জালাল উদ্দীন বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নির্দোষ হলে সাইফুর রহমান ও কছির মিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হোক।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: