ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ PM

বায়োমেট্রিকে অনিয়মের চিত্র, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮/০৯/২০২৬ ০৭:৫০:৪৯ PM

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পালন, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের নির্দেশনায় সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুই সদস্যের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া, পূর্ণ কর্মঘণ্টা পালন না করা এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের সরেজমিন সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এনফোর্সমেন্ট টিমকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হন না। কেউ কেউ দেরিতে হাসপাতালে এসে আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা পালনের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি নোটিশেও অনিয়মের বিষয়টি উঠে এসেছে। সদ্যবিদায়ী হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি এবং কর্মস্থল ত্যাগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশ অনুযায়ী, চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং কর্মস্থল ত্যাগের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।

অন্যদিকে, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বলে বায়োমেট্রিক তথ্যে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, ‘দুই সদস্যের একটি টিম মঙ্গলবার ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট টিম সেখানে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তাই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

এদিকে, মঙ্গলবারই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এর পরপরই চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদক জানিয়েছে, সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ