সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কোনো ঝামেলা বাধাতে আগ্রহী না, তবে আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের অধীনস্থ উত্তর আয়ারল্যান্ডকে একত্রিত বা একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে আগ্রহী। শনিবার ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চাই না, তবে আয়ারল্যান্ডকে একত্রিত দেখতে চাই। এদিকে, ট্রাম্পের আকস্মিক এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের সংবেদনশীল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে।ট্রাম্পের মতে, আয়ারল্যান্ডের এই একত্রীকরণ আজ হোক বা কাল- একসময় ঘটবেই। তাই দেরি না করে এটি এখনই হয়ে যাওয়া ভালো। একত্রীকরণের চেষ্টাকে একটি ‘চমৎকার’ বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে আয়ারল্যান্ড সফর তার নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে কিছুটা আলাদা। ট্রাম্পের এই সফর কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়। তবে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে আইরিশ সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ট্রাম্পের সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্টিন সাংবাদিকদের জানান, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দশক ধরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন সরকার বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং করপোরেট কর থেকে আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ডুনবেগে তার মালিকানাধীন গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘অ্যামজেন আইরিশ ওপেন’। গলফের প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি নিয়মিত নিজের মালিকানাধীন বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। চলতি বছর তার মালিকানাধীন কোনো স্থাপনায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান ট্যুর ইভেন্ট এটি। দুই দিনের আয়ারল্যান্ড সফরে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকালে ডাবলিন পৌঁছান ট্রাম্প।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্য সরকার তাদের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কার্যালয়ের (ডাউনিং স্ট্রিট) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ট্রাম্পের মন্তব্যের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছিলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডে এই মুহূর্তে কোনো সীমান্ত গণভোট আয়োজন করার পরিকল্পনা নেই। ডাউনিং স্ট্রিট পুনরায় জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে সমর্থন না দেওয়া পর্যন্ত কোনো গণভোট হবে না। ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ কেউ ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন; আবার কেউ বিরোধিতা করেছেন।১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে নাকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে- তা নির্ধারণের একমাত্র আইনি অধিকার উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণের সম্মতির ওপর ন্যস্ত। বিবিসি, রয়টার্স।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




