হু*থিদের বিরুদ্ধে তিন দেশের প্র*তিরক্ষা জোট সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ AM

হু*থিদের বিরুদ্ধে তিন দেশের প্র*তিরক্ষা জোট সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/১০/২০২৬ ০৯:৪৭:১৬ AM

হু*থিদের বিরুদ্ধে তিন দেশের প্র*তিরক্ষা জোট সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত

সংগৃহীত


ইয়েমেনের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। একই সঙ্গে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ তিনটি।সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্স’ নামে পরিচিত এই প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হওয়ার পর এবারই প্রথম এটি সক্রিয় করা হলো। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে এর মিল রয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জোটের কাঠামোর আওতায় হামলা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে কমিটি।তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দেশ নিজেদের সংহতি ও ঐক্য পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশ সম্মিলিত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহ করবে এবং সেগুলো দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েন নিশ্চিত করবে। নিজ নিজ দেশের আইন ও অনুমোদিত ব্যবস্থার আওতায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি বাহিনী দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা পুনর্দখল করেছে এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের এই অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জোট জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অভিযানটিতে আকাশ থেকে সহায়তা দিচ্ছে।

অন্যদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উপকূলীয় রাবিগ শহরের আরামকো শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। একটি বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ আরও কয়েকটি স্থানে হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট গড়ে ওঠে। আগস্টে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পরপরই হুতিরা ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচক অনুযায়ী, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সক্রিয় সেনাসদস্যের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। তিন দেশের সামরিক বহরে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি যুদ্ধবিমান, ৬ হাজার ট্যাংক এবং ৩৪০টির বেশি নৌযান।

চুক্তিটি সইয়ের সময় দেশগুলোর সামরিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুতিরা সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের ওপর ফের হামলা হলে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: