মানব পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে

মানব পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/১০/২০২৬ ০৪:২৫:৩৬ অপরাহ্ন

মানব পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ

ছবি:সংগৃহীত


মানব পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। তবে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের সামগ্রিক উদ্যোগ বেড়েছে। তবে দেশটির অবস্থান আগের মতোই দ্বিতীয় ধাপে (টিয়ার-২) রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাও এ ধাপে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত মানব পাচার প্রতিরোধের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে দেশগুলোর অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে দেশগুলোকে তিনটি প্রধান ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে (টিয়ার-১) রয়েছে যেসব দেশ ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করেছে। দ্বিতীয় ধাপে (টিয়ার-২) রয়েছে যেসব দেশ মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও তা অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আর যেসব দেশ মানদণ্ড পূরণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয় না, সেগুলোকে তৃতীয় ধাপে (টিয়ার-৩) রাখা হয়। দ্বিতীয় ধাপে থাকা কিছু দেশের জন্য আলাদা করে নজরদারির তালিকাও (টিয়ার-২ ওয়াচ লিস্ট) রয়েছে।

মানব পাচার প্রতিরোধে অগ্রগতি

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নেওয়া কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানব পাচার প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ পাস করেছে।

এ ছাড়া মানব পাচারের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার কার্যক্রম বেড়েছে। অপরাধ শনাক্ত করা এবং ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার নির্দেশিকাও হালনাগাদ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদার করে মানব পাচারের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় ঘাটতি

অগ্রগতি সত্ত্বেও মানব পাচার প্রতিরোধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, আগের তুলনায় কমসংখ্যক মানব পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে মানব পাচার দমনে সরকারের পদক্ষেপও পর্যাপ্ত নয়। এ ধরনের অপরাধের বিস্তার এখনো ব্যাপক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের তুলনায় কমসংখ্যক মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগেও ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি।

অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ

অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, শ্রমিকদের নিজেদের পকেট থেকে নিয়োগ ফি দেওয়ার প্রথা বন্ধ করতে পারেনি সরকার। ফলে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আর্থিক দায়ের কারণে তাঁদের মানব পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের উদ্যোগ বাড়লেও ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ