১৫ কার্যদিবসেই ভূমি ছাড়পত্র ও নকশার অনুমোদন দিচ্ছে সিউক
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু, নিবন্ধনের আওতায় ৩১৫ জন

১৫ কার্যদিবসেই ভূমি ছাড়পত্র ও নকশার অনুমোদন দিচ্ছে সিউক

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০৭:৩৬:০১ অপরাহ্ন

১৫ কার্যদিবসেই ভূমি ছাড়পত্র ও নকশার অনুমোদন দিচ্ছে সিউক

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। কার্যক্রম শুরুর মাত্র দুই মাসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন এবং পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদনের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৩১৫ জনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নগরের নাইওরপুলে সিউকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবন মালিক, স্থপতি, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুমোদনপত্র ও নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সনদ বিতরণ করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

অনুষ্ঠানে তিনজন ভবন মালিককে নকশা অনুমোদনপত্র, নয়জনকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, পাঁচজন স্থপতি ও ছয়জন প্রকৌশলীকে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছয়টি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি কারিগরি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে ৩১৫ জন পেশাজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভবন মালিকদের হাতে অনুমোদিত নকশাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সিউকের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অংশীজনদের সহযোগিতায় এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নগর পরিকল্পনায় শুধু অনুমোদন প্রদানই যথেষ্ট নয়, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন সিউক চেয়ারম্যান। এ জন্য অনুমোদিত নকশার বিপরীতে নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না, তা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবন মালিকদের পাশাপাশি নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সচেতন করা হচ্ছে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুতেই আইন প্রয়োগ না করে মানুষকে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতে চায় সিউক। তবে নির্দিষ্ট সময় পর প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবন মালিক, নগরী ও দেশের স্বার্থেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিলেটকে পরিকল্পিত নগরায়ণের আওতায় এনে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সিউকের সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল প্রায় দুই মাস আগে, তবে এদিন থেকেই সেবাগ্রহীতাদের হাতে অনুমোদন ও নিবন্ধন সনদ হস্তান্তরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে দৃশ্যমান হলো।

তিনি জানান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০ অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করায় ভবিষ্যতে আবেদনসংখ্যা বাড়লে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো নিষ্পত্তি করা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে জানান নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব আবেদন জমা পড়ছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে সিউক। পাশাপাশি সংস্থাটির পরিদর্শন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সিউকের নতুন কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী, শুধু ভবন মালিক নন, নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীদেরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্মাণকাজের সুপারভিশন বা তদারকির বিষয়টিও নিবন্ধনের শর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্মাণ শুরুর আগে ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু নকশা তৈরি করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ থাকছে না; নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা ও তদারকিও নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সিউক। নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সংস্থাটি।

সিউক সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন পাওয়ার পর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বিএনবিসি-২০২০ অনুসারে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে। এ কাজে অথরাইজড অফিসার, সহকারী স্থপতি, উপসহকারী প্রকৌশলী, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে ভবন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্মাণ-পরবর্তী নিয়মনীতি অনুসরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, ভবন নির্মাণ কমিটির (বিসি কমিটি) মাধ্যমে নকশা অনুমোদনের পরও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবন ব্যবহারের আগে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ প্রদানও নিশ্চিত করা হবে। ভূমির ব্যবহার থেকে শুরু করে নকশা অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ভবন ব্যবহারের অনুমতি—পুরো প্রক্রিয়াকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই সিউকের লক্ষ্য।

এদিকে, স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ছাড়পত্র ও নিবন্ধন সনদ হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তারা জানান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সেবা পেয়েছেন। এ জন্য সংস্থাটির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর হওয়ার ফলে সিলেটে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন আইনগত কাঠামো তৈরি হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ নেই; এ ধরনের অনুমোদন আইনগতভাবে অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে সিলেটে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিউকের অনুমোদন এবং নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ