ভ্রমন জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে জাফলং ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তাসনিম রোজা
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৯:৪২ PM

ভ্রমন জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে জাফলং ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তাসনিম রোজা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৫ ০৫:০০:৩৪ PM

ভ্রমন জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে জাফলং ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তাসনিম রোজা

ছবি:নিজস্ব


শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে খুলনা থেকে পর্যটন স্পট জাফলং ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তাসনিম ইসলাম রোজা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি ভ্রমণ বাহ্যিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে। ন্যাচারাল পরিবেশে পাহাড় বন নদী সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান যা ভবিষ্যৎ জীবনের প্রয়োজনে কাজে লাগে।

তিনি বলেন, নতুন সংস্কৃতি ও মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া, মানসিক প্রশান্তি, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং জীবনের প্রতি গভীর উপলব্ধি তৈরি করা যায়, যা একজন ব্যক্তিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নত মানসিকতা নিয়ে জীবনে চলতে সাহায্য করে। এছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে দেহের ও মনের উপর প্রশান্তির প্রভাব ভ্রমণ সহায়ক।

শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের সমাগম হয়েছে। ব্যাপক পর্যটকের আনাগোনায় ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলোর অধিকাংশই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এখনো বুকিং এর জন্য অনেক পর্যটকরা যোগাযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠন হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষ। ইউনাইটেড ব্যাংকে কর্মরত তার বাবা বলেন, জাফলং আসতে গিয়ে প্রায় ছয় ঘন্টার যানজট বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখানে এসে শীতল পরিবেশ দেখে সেই কষ্ট ঘুছে গেছে। ফ্যামিলির সবাই যার যার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে কোন ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না। 

গত বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে দূর্গোৎসবের সমাপ্তির পর গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। এবার পূজোর ছুটিতে লক্ষাধিক লোক সমাগমের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পূজার ছুটির পর অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যটন মৌসুম শুরু হবে। পূজোর ছুটির মধ্য দিয়ে এ-মৌসুমের ঘাটতি কাটিয়ে উঠবে এমনটাই মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্কাউট দল আগত পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছুটির শুরুতে গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকেই সিলেটে পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। পুণ্যভূমি সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে সিলেটে ছুটে আসতে থাকেন নানান বয়সী ভ্রমণ পিপাসুরা। ফলে পর্যটক সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে সিলেটের হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষকে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সিলেটে সবচেয়ে বেশী পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। নগরীর অভিজাত থেকে শুরু করে মধ্যম এমনকি সাধারণ মানের হোটেল গুলোতে রুম খালি না থাকায় হাজার হাজার পর্যটককে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। পর্যটন স্পটের পাশাপাশি শহরের চা বাগানগুলোতেও হাজার হাজার পর্যটকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে, দেশের জনপ্রিয় জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে নেই টয়লেট ওয়াশরুম কিংবা ভেজা কাপড় পরিবর্তনের জন্য চেঞ্জিং রুম। এনিয়ে আগত পর্যটকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা