ছবি: নিজস্ব
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাসহ সাত দাবিতে তিনি দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণ। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের সমেনে অনশন শুরু করেন আব্দুল্লাহ মামুন সুজন নামের ওই তরুণ। এই তিনদিনে সুজনের সাথে অনেকে একত্মতা পোষণ করেন।
শনিবার (১১ অক্টেবর) বিকেলে তার সাথে একাত্মতা পোষণ করে নগরে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ এবং রেভিটা বাংলাদেশ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন বলে জানান সুজন।
এদিকে, মিছিল শেষে শনিবার সন্ধ্যায় শহীদ মিনারের সামনে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন সংগঠন।
অনশনস্থলে গেলে দেখা যায়, শহীদ মিনার চত্বরের বাইরের ফুটপাতে সামিয়ানা টানিয়ে বসে আছেন আব্দুল্লাহ মামুন সুজন। তার সাথে বসে আছেন আরও কয়েকজন। তাদের পাশে রয়েছে দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
দাবিগুলো হলো- সিলেটের জন্য বিশেষ বাজেট ঘোষণা করতে হবে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ৬ লেনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে পাশাপাশি আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে হবে, সিলেট থেকে ডোমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিমানের টিকেটের দাম কমাতে হবে, সিলেট-ঢাকা ট্রেনের ডাবল লাইন নির্মাণ করতে হবে এবং নতুন ট্রেন বাড়াতে হবে, সিলেটে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে, সিলেটের পর্যটন খাত উন্নয়নের জন্য বিশেষ বাজেট ঘোষণা করতে হবে।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মামুন সুজন পেশায় ব্যবসায়ী। আগে তিনি গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অনশন প্রসঙ্গে সুজন বলেন, সিলেটের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে। সিলেট দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। সিলেটের সড়ক ও রেলপথের অবস্থা খুবই নাজুক। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এ এলাকার মানুষেরা।
তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা ও এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু সিলেটকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তাই সিলেটের উ্ন্নয়নে সাত দফা দাবিতে অনশন শুরু করেছি। দাবি আদায়ে সুনির্ধিষ্ট ঘোষণা আসার পূর্ব পর্যন্ত অনশন চলবে।
এদিকে, সুজনের এই অনশনে একাত্মতা জানিয়ে শনিবার বিকেলে মিছিল এবং সড়ক অবরোধ করে রেভিটা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। সড়ক অবরোধ করে তারা দাবির সপক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান, ‘সিলেটবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো। প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা আর মেনে নেওয়া যায় না।’
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




