সিলেটবাসী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত: আরিফুল হক চৌধুরী
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:৪৯ PM

সিলেটবাসী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত: আরিফুল হক চৌধুরী

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২/১০/২০২৫ ০৮:৩৩:৩০ PM

সিলেটবাসী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত: আরিফুল হক চৌধুরী

ছবি: নিজস্ব


সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিলেটবাসী। সিলেটের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতের ন্যায্য প্রাপ্যতা আজও নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও সিলেটবাসী বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি—অর্থাৎ নাগরিকের মৌলিক চাহিদাগুলোর ন্যায্য অধিকার থেকে সিলেটবাসী বারবার বঞ্চিত হচ্ছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) সিলেটে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬২ সালে যাত্রা শুরুর পর আজ পর্যন্ত সেই মান্ধাতা আমলের নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে রেলওয়ে স্টেশন। ফলে সিলেটবাসী তীব্র সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ঘন ঘন দুর্ঘটনা, টাকার বিনিময়ে অনির্দিষ্ট স্থানে ট্রেন থামানো, দালালের কারণে টিকিট না পাওয়া, নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়াসহ নানা সমস্যা এখন সিলেটবাসীর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন সংযোজনের কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের মাটিতে পদার্পণের পর নানা ভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিমানভাড়ায় যাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছেন।’

এ সময় আরিফ সিলেটের প্রবাসীদের দাবিগুলো তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমান চালুর দাবি জানান।

সমাবেশে যোগ দেন সিলেটের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী।

সাবেক মেয়র বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো পূরণে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, তা জানাতে হবে। অন্যথায় সিলেটের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এর আগে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নসহ আট দাবিতে কোর্ট পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রতীকী কর্মবিরতি কর্মসূচী পাালিত হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ রেখে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।  পরে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের কাছে দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিগ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘যে সমস্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। গত ৫-৭ বছর যাবৎ যোগাযোগ খাতে তেমন কোনো কাজ হয়নি, এজন্য মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি, কাজ শুরু হয়েছে।’

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার